সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

ওয়াশিংটনে নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠক: গাজায় যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে নতুন জল্পনা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৭-০৭ ১৩:২৮:০৪
ছবি সংগৃহিত

সকালের আলো ডেস্ক:
রাষ্ট্রীয় সফরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে পৌঁছেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগমুহূর্তে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার ঝড় উঠেছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নেতানিয়াহু-ট্রাম্প বৈঠকের অন্যতম মূল এজেন্ডা হতে যাচ্ছে গাজায় একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির রূপরেখা। সূত্র বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাস ও ইসরাইলের মধ্যে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি এবং বন্দিমুক্তি চুক্তির একটি খসড়া ইতিমধ্যে আলোচনায় এসেছে।
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, “আমরা গাজায় সংঘাতের ইতি টানতে অত্যন্ত দৃঢ় অবস্থানে আছি। আমি বিশ্বাস করি, এই সপ্তাহেই একটি সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হবে।” তিনি আরও বলেন, “নেতানিয়াহুর সঙ্গে আমার আলোচনা অত্যন্ত গঠনমূলক হবে, আমরা শান্তির পথে এগোতে বদ্ধপরিকর।”
যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার আগে বিমানবন্দরে এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু জানান, “আমরা এমন একটি চুক্তির বাস্তবায়নে কাজ করছি যা ইসরাইলের নিরাপত্তা স্বার্থকে অক্ষুণ্ন রাখবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আমার আলোচনায় এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে অগ্রগতি হবে বলে আমি আশাবাদী।”
স্থানীয় সময় রবিবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা পুনরায় শুরু হয়েছে। আলোচনায় মার্কিন সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তির খসড়া চুক্তি স্থান পেয়েছে। তবে আগে যেসব বিষয় চুক্তিতে বারবার বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে-তেমন মূল ইস্যুগুলোর সমাধান এবার আদৌ সম্ভব কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক হামলার পর এটি নেতানিয়াহু ও ট্রাম্পের প্রথম মুখোমুখি বৈঠক। এটি নেতানিয়াহুর তৃতীয় মার্কিন সফর হলেও সাম্প্রতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব বেড়েছে বহুগুণ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে ১২ দিনের সামরিক সংঘাত নেতানিয়াহুকে দেশে ব্যাপক জনসমর্থন এনে দিয়েছে। ফলে গাজায় দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার চাপে থাকলেও এখন শান্তিচুক্তি করার জন্য একটি কৌশলগত সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তবে চুক্তিতে সম্মত হতে গেলে নেতানিয়াহুকে তার জোটসঙ্গীদের আপত্তি অতিক্রম করতে হবে। এই জোটের অনেক সদস্য গাজায় ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে এবং হামাসের সঙ্গে কোনো সমঝোতার ঘোর বিরোধী।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কেবল গাজা ইস্যুতেই থেমে নেই। তার প্রশাসন চাইছে মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর অগ্রগতি-যেমন, ইসরাইল-সিরিয়া সীমান্ত পরিস্থিতি নিরসন, সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ এবং ইরানের সঙ্গে এক সময়ের পরিত্যক্ত পরমাণু আলোচনার পুনরারম্ভ।
এই বৈঠক মধ্যপ্রাচ্য শান্তি প্রক্রিয়ায় বড় অগ্রগতি এনে দিতে পারে, তবে বাস্তব চিত্র নির্ভর করবে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার সফলতা ও চুক্তির বাস্তবায়নযোগ্যতা কতটা নিশ্চিত হয় তার ওপর।
বিশ্বরাজনীতিতে ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের এই পুনর্মিলন এবং যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা বহু মানুষের জীবনে শান্তির আশার আলো জ্বালাতে পারে-নাকি পুরনো জটিলতা আরও গভীর করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

কীওয়ার্ডস:

ইসরাইল-হামাস যুদ্ধবিরতি, নেতানিয়াহু ট্রাম্প বৈঠক, গাজায় যুদ্ধবিরতির খবর, ইসরাইল যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক, কাতারে শান্তি আলোচনা, মধ্যপ্রাচ্য শান্তি চুক্তি, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট, নেতানিয়াহুর মার্কিন সফর, ইরান-ইসরাইল সংঘাত, ইসরাইল সৌদি সম্পর্ক, হামাস বন্দিমুক্তি চুক্তি


এ জাতীয় আরো খবর