রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

‘বিগ বিউটিফুল বিল’ সিনেট পাড়ি দিলো টাই-ব্রেকিং ভোটে,বিতর্কের ঝড় সামনে প্রতিনিধি পরিষদে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৭-০২ ২০:৪২:১৬
ছবি সংগৃহিত

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে দীর্ঘ বিতর্ক আর টানটান উত্তেজনার পর পাস হলো সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত 'বিগ বিউটিফুল বিল'।
ট্যাক্স ছাড় ও সরকারি ব্যয় হ্রাস সংক্রান্ত এ বিলটি মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে ৫১-৫০ ভোটে পাস হয়। ৫০-৫০ সমানে পড়ে যাওয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের টাই ব্রেকিং ভোটেই শেষ রক্ষা হয় রিপাবলিকানদের।
এই বিলের মাধ্যমে কর কাঠামো ঢেলে সাজানো এবং সীমান্ত, অভিবাসন ও প্রতিরক্ষা খাতে বিপুল ব্যয় বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে।
মূলত ট্রাম্প প্রশাসনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচিগুলোর অর্থ জোগান নিশ্চিত করতেই বিলটি তৈরি।
বিলের মূল দিকগুলো:
৫ বছরের জন্য রাজ্য ও স্থানীয় কর ছাড়ের সীমা $১০,০০০ থেকে বাড়িয়ে $৪০,০০০
বকশিশ, ওভারটাইম ও দেশীয় গাড়ি কেনার ঋণের সুদের ওপর কর মওকুফ
কর ছাড়ের আনুমানিক পরিমাণ: $৪.৫ ট্রিলিয়ন
সীমান্ত নিরাপত্তায় বরাদ্দ: $৩৫০ বিলিয়ন, যার মধ্যে
অভিবাসী আটক কেন্দ্রে ১ লাখ শয্যার জন্য $৪৫ বিলিয়ন
মেক্সিকো সীমান্তে দেয়াল নির্মাণে $৪৬ বিলিয়ন
২০২৯ সালের মধ্যে ১০,০০০ নতুন আইসিই কর্মকর্তা নিয়োগের পরিকল্পনা
সিনেট পাড়ি দিলেও এখন আবার ফেরত যাচ্ছে নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে, যেখানে বিলটির চূড়ান্ত ভাষা, খরচ ও কাঠামো নিয়ে আবারও জোরালো আলোচনা হবে।
এর আগে একই বিল প্রতিনিধি পরিষদে মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে পাস হয়েছিল। এখন আবারও যাচাই-বাছাইয়ের পর অনুমোদন পেলে তা আইনে পরিণত করতে পাঠানো হবে প্রেসিডেন্টের টেবিলে।
ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন-বিলটি তিনি আগামী ৪ জুলাইয়ের মধ্যে হাতে পেতে চান। তবে তিনি এটাও স্বীকার করেছেন যে সময়মতো সব কিছু সম্পন্ন করা "খুবই কঠিন" হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিল কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি লাভবান হবেন উচ্চ আয়ের ধনী শ্রেণি।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণা অনুযায়ী, গরিবদের গড় আয় কমবে ২.৫%, কারণ জনকল্যাণমূলক স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্যসাহাযতার বাজেট কমানো হবে।
বিপরীতে ধনী নাগরিকদের গড় আয় বাড়বে ২.২%।
এছাড়াও, নতুন আইন কার্যকর হলে এক কোটির বেশি মানুষ স্বাস্থ্যবিমার সুযোগ হারাতে পারেন, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
সিনেটে বিলটি নিয়ে চলে টানা ২৪ ঘণ্টার বিতর্ক।
ডেমোক্র্যাট সদস্যরা স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা ব্যয় কাটছাঁট নিয়ে তীব্র আপত্তি জানায়। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা দাবি করেন, এই বিলের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কর ব্যবস্থায় স্বস্তি ফিরবে এবং সীমান্ত নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।
ভোটাভুটিতে ৫০-৫০ সমান ভোট পড়লে এক সময় অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। শেষ পর্যন্ত ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স নিজের ভোট দিয়ে সমীকরণ পাল্টে দেন।
বিলটি ট্রাম্পের পুনরায় নির্বাচনের সম্ভাব্য মঞ্চ প্রস্তুতের অংশ বলেই মনে করছেন অনেক বিশ্লেষক।
তিনি এটিকে নিজে আখ্যা দিয়েছেন “বিগ বিউটিফুল বিল”-যেটি যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তায় ‘ইতিহাস গড়বে’ বলে তাঁর দাবি।
তবে সমাজকল্যাণ খাতে কাঁটছাঁট এবং ধনীদের কর ছাড় নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে।

হাইলাইটস:

সিনেটে ৫১-৫০ ভোটে পাস ‘বিগ বিউটিফুল বিল’

টাই ব্রেকিং ভোট দেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স
এখন ফেরত যাবে প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য
ধনীদের কর ছাড়, গরিবদের স্বাস্থ্য-খাদ্য সেবায় কাটছাঁট
আইনে পরিণত করতে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে ট্রাম্পের চাওয়া
সম্ভাব্য প্রভাব: ১ কোটির বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা হারানোর আশঙ্কা
বিশ্লেষকদের মতে, বিলটি আইন হিসেবে কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে সামাজিক বৈষম্য আরও বাড়তে পারে। এখন দেখা যাক, প্রতিনিধি পরিষদে এই বিতর্কিত বিল টিকে থাকে কিনা-নাকি চাপে পড়ে কোনো রদবদল আসে।


এ জাতীয় আরো খবর