মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

মালয়েশিয়ায় আইএস সংশ্লিষ্টতায় ৩৬ বাংলাদেশি আটক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কঠোর হুঁশিয়ারি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-২৭ ২১:২০:০৪

জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে মালয়েশিয়ায় ৩৬ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়েছে। সেলাঙ্গর ও জোহর রাজ্যে পরিচালিত এক ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযানে তাদের আটক করে দেশটির পুলিশ।
শুক্রবার (২৭ জুন) দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক হারিয়ান মেট্রো-এর প্রতিবেদনে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন নাসুশন ইসমাইল।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, গত ২৪ এপ্রিল থেকে চালানো একটি পরিকল্পিত ‘সন্ত্রাসবাদবিরোধী অভিযান’-এর অংশ হিসেবে এই ৩৬ জনকে তিন ধাপে আটক করা হয়। অভিযানে মালয়েশিয়ার বিশেষ পুলিশ শাখা, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিভাগ এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় ছিল।
তিনি বলেন, “মালয়েশিয়ায় কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠী, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ কিংবা আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের জায়গা হবে না। আমাদের মাটি ব্যবহার করে কেউ জঙ্গি কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করলে তার জবাব হবে কঠোর।”
আটকদের মধ্যে ৫ জনের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাহ আলম এবং জোহর বাহরু সেশন কোর্টে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির সন্ত্রাস সংশ্লিষ্ট ধারা প্রয়োগ করা হচ্ছে।
১৫ জনের বিরুদ্ধে নির্বাসনের (ডিপোর্টেশন) আদেশ জারি করা হয়েছে, যারা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আন্তর্জাতিক জঙ্গি চক্রের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পাননি তবে সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে গোয়েন্দারা মনে করছেন।
অবশিষ্ট ১৬ জনের বিষয়ে তদন্ত এখনও চলমান, যাদের বিষয়ে আইএস সংশ্লিষ্টতার পর্যাপ্ত তথ্য গোয়েন্দা সংস্থার হাতে এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাইফুদ্দিন বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে আমরা কোনো ছাড় দেব না। সময়মতো পদক্ষেপ এবং নির্ভুল গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে যেভাবে পুলিশ অভিযানটি সফল করেছে, তা প্রশংসার যোগ্য।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা কেডিএন-এর (মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করছি। দেশে অবস্থানরত বিদেশিদের তথ্য নিবন্ধন ও চলাচলের বিষয়ে নতুন পর্যবেক্ষণ নীতিও বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।”
মালয়েশিয়া সরকার এখন আরও সক্রিয়ভাবে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বাড়াচ্ছে। মন্ত্রী জানান, “আমরা বুঝতে পেরেছি, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভূগোলকে কেন্দ্র করে জঙ্গি সংগঠনগুলো নতুন ট্রানজিট হাব তৈরি করতে চাইছে। মালয়েশিয়াকে কেউ এই রকম কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র বানাতে চাইলে তা কঠোরভাবে দমন করা হবে।”
এ বিষয়ে মালয়েশিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাস থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে সূত্র বলছে, আটক বাংলাদেশিদের বিষয়ে কূটনৈতিক পর্যায়ে যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাদের আইনি সহায়তা, পরিচয় যাচাইসহ বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের ঘটনায় মালয়েশিয়ায় কর্মরত বৈধ বাংলাদেশি শ্রমিকদের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ থেকে নতুন শ্রমিক নিয়োগের প্রক্রিয়াও সাময়িকভাবে ধীরগতির মুখে পড়তে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর