বাংলাদেশ স্কাউটসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘কাব কার্নিভাল ২০২৫’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
সোমবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের শাপলা হলে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি স্কাউট কার্নিভালের উদ্বোধন করেন এবং বিজয়ীদের হাতে তুলে দেন সম্মানজনক ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’।
উদ্বোধনী ভাষণে ড. ইউনূস বলেন, “স্কাউটিংয়ের ইতিহাসে এমন আত্মত্যাগ বিশ্বের আর কোথাও দেখা যায় না। বাংলাদেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য, নতুন এক সম্ভাবনাময় বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে চারজন কাব স্কাউট তাদের জীবন উৎসর্গ করেছে—এটাই আমাদের তরুণ প্রজন্মের অনুপ্রেরণা।”
তিনি আরও বলেন, “স্কাউটরা শুধু নিয়ম শেখে না, তারা শেখে নেতৃত্ব, নিষ্ঠা ও ত্যাগ। আজকের কার্নিভাল সেই চেতনার উদযাপন।”
বাংলাদেশ স্কাউটসের ইতিহাসে এটিই সবচেয়ে বৃহৎ সমন্বিত আয়োজন। সারাদেশে একযোগে ৫২৭টি ভেন্যুতে এই কাব কার্নিভাল উদযাপিত হচ্ছে। শিশু-কিশোরদের নিয়ে আয়োজিত এই আয়োজনে অংশ নিয়েছে লাখো স্কাউট সদস্য। আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য-তাদের ভেতরে নেতৃত্বগুণ, সামাজিক দায়বদ্ধতা, দেশপ্রেম এবং পরিবেশবান্ধব জীবনধারার বীজ বপন করা।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের স্কাউট সদস্যদের মধ্যে যারা বিশেষ অবদান রেখেছেন, তাদের হাতে ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ তুলে দেন ড. ইউনূস। পদকপ্রাপ্তদের অনেকেই সামাজিক সচেতনতামূলক কর্মকাণ্ড, পরিবেশ রক্ষা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অনন্য ভূমিকা রেখেছে।
পদকপ্রাপ্ত একজন কিশোর স্কাউট অনুভূতি জানিয়ে বলেন, “ড. ইউনূস স্যারের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়া আমার জীবনের অন্যতম গর্বের মুহূর্ত। এখন আমার স্বপ্ন-একদিন দেশের জন্য কিছু করে দেখাবো।”
উল্লেখ্য, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার শুরু থেকেই তরুণ প্রজন্মকে উন্নয়ন-প্রক্রিয়ার কেন্দ্রবিন্দুতে রাখার কথা বলে আসছে। স্কাউটসের মতো স্বেচ্ছাসেবী ও নৈতিক মূল্যবোধ ভিত্তিক সংগঠনকে জাতীয় উন্নয়নের অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি।
তিনি বলেন, “শিশু-কিশোররাই ভবিষ্যতের চালক। আমরা চাই তারা শৃঙ্খলা, দায়িত্ব ও মানবিক মূল্যবোধে বড় হয়ে উঠুক। স্কাউটরা সেই বাংলাদেশ গঠনের বীজতলা।”
কার্নিভালের ছবি ও ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। অভিভাবক, শিক্ষক এবং সাধারণ মানুষের কাছ থেকে আসছে ব্যাপক প্রশংসা। অনেকেই মন্তব্য করছেন, এই ধরনের ইতিবাচক ও উৎসাহব্যঞ্জক আয়োজন শিশুদের জীবনবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
একদিকে যখন দেশ নানা রাজনৈতিক ও সামাজিক চ্যালেঞ্জের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন এই স্কাউট কার্নিভাল যেন ভবিষ্যতের জন্য এক আশার বাতিঘর। শিশুরা হাতে হাত ধরে শিখছে দায়িত্ব, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেম-নতুন এক বাংলাদেশ গঠনের পথে এটিই হতে পারে প্রথম ভিত্তিপ্রস্তর।
সকালের আলো ডট কম-এর পক্ষ থেকে এই ঐতিহাসিক আয়োজনের জন্য স্কাউটস, অভিভাবক, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সকলকে অভিনন্দন।
সূত্র: বাংলাদেশ স্কাউটস, অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যালয়, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ