বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০২৬

ইসরায়েলের ‘সাহায্য চাওয়া’ দুর্বলতার প্রমাণ: খামেনি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-২০ ১২:৩৮:২৬
ফাইল ছবি

 ঢাকা-২০ জুন ২০২৫
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চাওয়াকে ‘চরম দুর্বলতা ও অক্ষমতার প্রতিচ্ছবি’ বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। তিনি বলেন, শত্রু যদি ভয় পেয়ে পিছিয়ে যায়, তবে তা আরও বড় বিপদের কারণ হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) আল-জাজিরার লাইভ রিপোর্ট অনুযায়ী, আয়াতুল্লাহ খামেনি এক্সে (সাবেক টুইটার) প্রকাশিত এক বার্তায় বলেন- “মার্কিন হস্তক্ষেপ চাওয়ার মধ্য দিয়ে ইসরায়েলি প্রশাসনের দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছে। যারা নিজেরাই যুদ্ধ শুরু করে, তারা এখন বাঁচার জন্য বন্ধুদের ডাকছে।”
খামেনির বক্তব্যে স্পষ্ট করা হয়, ইরান এই মুহূর্তে আত্মরক্ষামূলক নীতিকে সামনে রেখে যে অবস্থান নিয়েছে, তা সহজে নড়চড় হবে না।
তিনি ইরানিদের প্রতি সাহস ও স্থিরতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন- “আমি আমার প্রিয় জাতিকে বলতে চাই, শত্রু যদি আপনার মধ্যে ভয় দেখার সুযোগ পায়, তাহলে তারা ছাড় দেবে না। বরং আরও আগ্রাসী হবে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আপনারা যেমন দৃঢ়তা ও সাহসিকতার সঙ্গে এখন পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন, তেমনি অবিচল থাকতে হবে। নতজানু হলে শত্রু আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে।”
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক ‘নরম বার্তা’ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সক্রিয় সামরিক সহযোগিতা চাওয়া-এই দুই ইঙ্গিতই ইরানকে কৌশলগতভাবে শক্ত বার্তা দেওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে। খামেনির এই বক্তব্য আসলে শুধু অভ্যন্তরীণ মনোবল বাড়ানোর উদ্দেশ্যে নয়,বরং আন্তর্জাতিক মহলের কাছেও একটি বার্তা: ইরান এখনো শক্ত অবস্থানে রয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার দ্বন্দ্ব নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে উত্তেজনা বহুগুণে বেড়েছে। ইসরায়েলের ঘাঁটিগুলোতে একাধিক ড্রোন হামলা, গাজায় হামলা, সিরিয়া সীমান্তে ক্ষেপণাস্ত্র বিনিময়সহ নানা ঘটনায় যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র এ অবস্থায় ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে, তবে এখনো তারা সরাসরি সংঘাতে জড়ায়নি। এই দ্বৈত অবস্থান নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের ভেতরে ও বাইরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
খামেনির সাম্প্রতিক পোস্ট বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এটি এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ের অংশ। যেখানে একদিকে ইরান নিজেদের নির্ভীক দেখাতে চাচ্ছে, অন্যদিকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রকে ‘আশ্রয়প্রার্থী ও দুর্বল’ প্রতিপক্ষ হিসেবে চিত্রিত করছে।
এই মুহূর্তে গোটা মধ্যপ্রাচ্য একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্যের উপর দাঁড়িয়ে আছে। ইরান ও ইসরায়েলের মুখোমুখি অবস্থান এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা-সব মিলিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ বিশ্বরাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর