রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

ইরানে ইসরায়েলি হামলায় নিহত বেড়ে ৪৫০ ছাড়াল,আহত শত শত

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১৮ ০২:২৯:৩২
ছবি সংগৃহিত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানে ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা লাফিয়ে বাড়ছে। মানবাধিকার সংগঠন ‘হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্টস ইন ইরান’ (এইচআরএএনএ)-এর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী,ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৪৫২ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৬৪৬ জন।
মঙ্গলবার (১৭ জুন) ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।
এইচআরএএনএ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে অন্তত ২২৪ জন বেসামরিক নাগরিক, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুরাও রয়েছে। সংস্থাটির দাবি, ১০৯ জন ছিলেন ইরানের সেনাবাহিনীর সদস্য। তবে বাকি ১১৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি-তারা সামরিক না বেসামরিক, তা নির্ধারণে এখনও তথ্য বিশ্লেষণ চলছে।
হামলায় হতাহতদের প্রকৃত সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এইচআরএএনএ।
ইরানি সরকার এখনো এই ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো সংখ্যা প্রকাশ করেনি। দেশটির রাষ্ট্রীয় মিডিয়া কেবল আংশিক হামলার খবর প্রচার করছে এবং ‘সন্ত্রাসী প্রতিরোধ’ অভিযানের ভাষা ব্যবহার করছে।
এই বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এমন ভয়াবহ প্রাণহানির পরেও সরকারের তথ্য গোপন করার প্রবণতা উদ্বেগজনক।
এদিকে ইরানের পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। ইসরায়েলের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার রাত থেকে ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় চালানো হামলায় এখন পর্যন্ত ১৫৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং তাদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
উল্লেখ্য,গত সপ্তাহে ইসরায়েলের একটি বিমান হামলায় সিরিয়ায় ইরানি কূটনৈতিক কম্পাউন্ডে বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা নিহত হন। সেই ঘটনার পর থেকেই ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা তীব্র আকার ধারণ করে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহল বারবার উভয় পক্ষকে ‘সংযম’ দেখানোর আহ্বান জানালেও হামলা-পাল্টা হামলা বেড়েই চলেছে। ইরান জানিয়েছে, এই আক্রমণের জন্য ‘চরম মূল্য’ দিতে হবে ইসরায়েলকে। অপরদিকে ইসরায়েলও জানিয়ে দিয়েছে, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে তারা ‘এক ইঞ্চিও ছাড় দেবে না’
মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এই সংঘাতে সাধারণ নাগরিকদের ওপর চাপ সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ইরানের বিভিন্ন শহরে বোমা হামলায় বসতবাড়ি, হাসপাতাল ও স্কুল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এইচআরএএনএ এর মতে, হামলায় হতাহতদের মধ্যে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ নারী ও শিশু। অনেক অঞ্চল এখনও উদ্ধারকাজের বাইরে রয়েছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান এই সংঘাত শুধু দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকছে না, এর প্রভাব পড়ছে গোটা অঞ্চলে। মানবিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা বাড়ছে প্রতিদিন। ইরান ও ইসরায়েলের এই উত্তপ্ত সম্পর্ক দ্রুত থামানো না গেলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন বিশ্লেষকরা।

 


এ জাতীয় আরো খবর