রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

ইরানের আকাশ এখন আমেরিকার দখলে”-বিতর্কিত ঘোষণায় ট্রাম্প,জটিলতা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১৭ ২২:৫৯:২৫
ছবি সংগৃহিত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র এখন সম্পূর্ণভাবে ইরানের আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, “ইরানের আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও স্কাই-ট্র্যাকিং ব্যবস্থাগুলো যতই থাকুক না কেন, সেগুলো আমাদের প্রযুক্তির সামনে কিছুই নয়। আমেরিকান উদ্ভাবন, চিন্তাশক্তি ও নির্মাণের সঙ্গে টেক্কা দেওয়ার মতো কেউ নেই।”
এই মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে। বিশেষ করে এমন সময়ে যখন হোয়াইট হাউজ বারবার দাবি করে আসছে, সম্প্রতি ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে চালানো বিমান হামলায় যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি কোনোভাবে সম্পৃক্ত নয়।
যুক্তরাষ্ট্র 'আকাশ দখলের' দাবি করলেও, সরকার বলছে-'আমরা সরাসরি জড়িত নই'
ট্রাম্পের বক্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের অন্তত কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ও রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। হামলার পর থেকেই ওয়াশিংটন সতর্ক কূটনৈতিক ভাষায় জানিয়ে আসছে-তারা এই অভিযানের অংশীদার নয়, বরং ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে।
তবে ট্রাম্পের নতুন দাবি এই বার্তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রাম্পের এমন প্রকাশ্য ঘোষণা সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের আসল ভূমিকা নিয়ে নতুন করে সন্দেহ তৈরি করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প প্রায়ই নিজের কূটনৈতিক অবস্থান ও সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থানের মধ্যে বিভ্রান্তিকর বার্তা দিয়ে থাকেন। আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি হয়তো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বা কৌশলগত বার্তা, যার মাধ্যমে ট্রাম্প নিজের রাজনৈতিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করতে চাইছেন-বিশেষ করে আগামী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে জাতীয়তাবাদী মনোভাবকে উস্কে দিয়ে।
দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে অস্ত্র, গোয়েন্দা তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি হামলায় অংশ না নিলেও, তাদের পরোক্ষ ভূমিকা উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই।
জাতিসংঘ নিরাপত্তা বিশ্লেষক আনোয়ার হাকিমি বলেন, “ট্রাম্পের মন্তব্য অপ্রত্যাশিত নয়, তবে এটিই প্রথম বার যে তিনি সরাসরি ‘আকাশ নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার’ মতো ভাষা ব্যবহার করলেন। এর অর্থ হতে পারে, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সাইবার বা মহাকাশ প্রযুক্তি ব্যবহারে এমন কিছু করছে, যা এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।”
ট্রাম্পের বক্তব্যের পর ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ একাধিক মধ্যপ্রাচ্য পর্যবেক্ষণ সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স ও জার্মানি দ্রুত এই বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছে বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এমন বক্তব্য অস্থিতিশীলতা আরও বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
ইরান এখনও ট্রাম্পের বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই ঘোষণাকে ‘চরম উসকানি’ বলে বর্ণনা করছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই বক্তব্যকে মার্কিন আগ্রাসনের স্বীকৃতি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, যা ভবিষ্যতের কূটনৈতিক বা সামরিক জবাবকে কঠিনতর করতে পারে।

সংক্ষেপে:
ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আকাশসীমা সম্পূর্ণভাবে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
সরকারিভাবে এখনো যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, ইসরায়েলের হামলায় তারা জড়িত নয়।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের বক্তব্য কৌশলগত ইঙ্গিত হতে পারে।
আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন।


এ জাতীয় আরো খবর