ঢাকা-১৫ জুন ২০২৫ মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার তীব্র সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে শান্তির বার্তা দিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। গ্রিনল্যান্ড সফরের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, "আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই সংকট প্রশমিত হবে এবং একটি রাজনৈতিক সমাধানের পথে অগ্রসর হওয়া সম্ভব হবে।"
ফরাসি প্রেসিডেন্ট বলেন, “আমরা আশাবাদী যে আলোচনার পথ খুলবে এবং এই অঞ্চলকে নতুন করে অস্থিরতা বা যুদ্ধের দিকে ঠেলে না দিয়ে ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ ও সমঝোতার একটি ভিত্তি তৈরি হবে।”
ম্যাখোঁ জানান, ১৬–১৮ জুন কানাডায় অনুষ্ঠিতব্য জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে ইরান-ইসরায়েল ইস্যু একটি গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়ের মধ্যে থাকবে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, জাপান ও ইতালির নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে আলোচনা করবেন তিনি।
জানা গেছে, এই সম্মেলনে ইরানের পরমাণু সক্ষমতা, সিরিয়া-লেবাননে তেহরানপন্থী গোষ্ঠীগুলোর তৎপরতা, এবং ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া-সব কিছু নিয়ে একটি সমন্বিত কূটনৈতিক অবস্থান তৈরির চেষ্টা চলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা, গুপ্তচর গ্রেপ্তার ও ড্রোন বিস্ফোরণের ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে সম্পর্ক ভয়াবহ রকমের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বিশেষ করে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় সন্দেহভাজন ড্রোন হামলা এবং আলবুর্জ প্রদেশে মোসাদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়।
ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ ইতোমধ্যে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে ফরাসি প্রেসিডেন্টের আশাবাদী মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কিছুটা স্বস্তি তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, "ম্যাখোঁর বক্তব্য কোনো গোপন কূটনৈতিক উদ্যোগের ইঙ্গিতও হতে পারে, যার মাধ্যমে পশ্চিমা শক্তিগুলো উভয় পক্ষকে শান্তি আলোচনায় বসাতে চাইছে।"
ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সালেহ হাসান বলেন,
“ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ হঠাৎ করে বিস্ফোরিত হলেও এটি দীর্ঘদিনের জমে থাকা উত্তেজনার ফল। ফ্রান্সের নেতৃত্বে যদি আলোচনার কোনো রাস্তা খোলে, তবে তা কেবল দুই পক্ষের জন্য নয়, গোটা মধ্যপ্রাচ্য ও জ্বালানি বাজারের স্থিতির জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা নিয়ে পশ্চিমা বিশ্বের উদ্বেগ দীর্ঘদিনের। ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তি (JCPOA) থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে তেহরান তার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ম্যাখোঁর মন্তব্যে স্পষ্ট, তিনি চান পশ্চিমা দেশগুলো নতুন করে কূটনৈতিক চুক্তির পথে অগ্রসর হোক, যার মাধ্যমে আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হবে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত যখন সংঘর্ষের রূপ নিচ্ছিল, তখন ফ্রান্সের মতো একটি শক্তিধর দেশের শান্তির আহ্বান পরিস্থিতি ঠান্ডা করতে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বাস্তবে উত্তেজনা প্রশমিত হয় কি না, সেটিই এখন আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলের কৌতূহলের বিষয়।