ঢাকা- ১৪ জুন ২০২৫
ইরান-ইসরায়েল চলমান উত্তেজনার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে ফের রক্তক্ষয়ী পরিণতি। ইরানের পাল্টা ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইসরায়েলে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। ইসরায়েলের নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
টাইমস অব ইসরায়েল ও এপি-র তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার রাত থেকে শনিবার (১৪ জুন) ভোর পর্যন্ত ইরান থেকে একযোগে মধ্য ইসরায়েলের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র বর্ষণ করা হয়। কিছু ক্ষেপণাস্ত্র সোজা আবাসিক ভবন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় আঘাত হানে, যার ফলে হতাহতের এই ঘটনা।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (IDF) জানিয়েছে, দেশটির ‘আয়রন ডোম’ ও ডেভিড’স স্লিং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করা হয়েছিল এবং বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র মাঝ আকাশেই ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ভেদ করে আঘাত হানায় ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এপির তথ্য মতে, হামলার সময় তেল আবিব, পেতাহ টিকভা, নেস জিয়োনা, রামাতে গণ, হাইফা এবং জেরুজালেমসহ একাধিক শহরে বিমান হামলার সতর্কতা সাইরেন বাজে। লোকজন আশ্রয়কেন্দ্রে ছোটে। সমগ্র ইসরায়েলজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক।
জরুরি সেবাবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আহত ৮০ জনের মধ্যে ২০ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের অনেকেই বিস্ফোরণের ফলে ছিন্নভিন্ন ক্ষত নিয়ে চিকিৎসাধীন। বাকিদের মধ্যে কিছু মানসিক ধাক্কায় আক্রান্ত এবং অন্যরা হালকা আহত।
ইরানের সরকারি মিডিয়া দাবি করেছে, তাদের এই হামলা ছিল একান্তই আত্মরক্ষামূলক এবং ইসরায়েলের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনায় আগের হামলার জবাব। তেহরানের ভাষ্যমতে, চারটি পর্যায়ে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়, প্রতিটি পর্যায়ে কয়েক ডজন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহৃত হয়।
ইসরায়েল সেনাবাহিনী এই দাবিকে স্বীকার না করে জানিয়েছে, তারা এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ চিত্র মূল্যায়ন করছে। তবে দেশটির সামরিক ও বেসামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
এই সংঘর্ষে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “এই অঞ্চল আর নতুন কোনো যুদ্ধ সহ্য করতে পারবে না। উভয় পক্ষকে সংযত আচরণ করতে হবে।”
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বানের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাত এখন আর শুধু কথার লড়াই নয়, বাস্তব মাটিতে মৃত্যুর মিছিল ও ধ্বংসের প্রতিচ্ছবি। এই ঘটনার পর আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। প্রশ্ন উঠছে-এই সংঘাত কী এখানেই থেমে যাবে, নাকি আরও ভয়াবহ পরিণতির দিকে এগিয়ে চলেছে মধ্যপ্রাচ্য?
সকালের আলো ডট কম এর পক্ষ থেকে এই চলমান সংকটের সর্বশেষ বিশ্লেষণ ও আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের পাতায়।