মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

আহমেদাবাদে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বিমান বিধ্বস্ত: ২৪২ যাত্রীর ভাগ্য অনিশ্চিত,জরুরি উদ্ধার অভিযান

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-১২ ১৪:৪৪:০৬
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা- ১২ জুন ২০২৫, 
ভারতের গুজরাট রাজ্যের আহমেদাবাদে এক মর্মান্তিক বিমান দুর্ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার একটি যাত্রীবাহী বিমান মেঘানিনগর এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। বিমানটিতে ২৪২ জন যাত্রী ছিলেন বলে ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই ও গুজরাট রাজ্য পুলিশ কন্ট্রোল রুম সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিধ্বস্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই বিমানটিতে বিস্ফোরণ ঘটে এবং তীব্র আগুন জ্বলে ওঠে। ধোঁয়ার কুণ্ডলী এমনভাবে আকাশে ছড়িয়ে পড়ে যে কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও তা চোখে পড়েছে। দুর্ঘটনার শব্দ ও আগুন দেখে অনেক স্থানীয় মানুষ আতঙ্কে রাস্তায় ছুটে আসেন।
গুজরাট প্রশাসনের তৎপরতায় তাৎক্ষণিকভাবে সাতটি দমকল ইঞ্জিন ও ১২টিরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। আহতদের উদ্ধারে চলছে নিরলস অভিযান। পুলিশের একটি বিশেষ বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলেছে এবং সাধারণ জনগণকে দূরে থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতি অনুসারে, দুর্ঘটনাকবলিত বিমানটির ফ্লাইট নম্বর ছিল AI171, যা আহমেদাবাদ থেকে যুক্তরাজ্যের গ্যাটউইক বিমানবন্দরের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছিল।
বিমানটি উড্ডয়নের সময়ই বিপর্যয়ের শিকার হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।

এয়ার ইন্ডিয়ার বিবৃতি:
“ফ্লাইট AI171 আজ ১২ জুন আহমেদাবাদ থেকে গ্যাটউইক যাওয়ার পথে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। আমরা যাত্রীদের নিরাপত্তা ও উদ্ধার কাজে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছি। বিস্তারিত তথ্য যাচাই চলছে।”

দুর্ঘটনার পরপরই ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী, রাজ্যের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সাহায্যের আশ্বাস দিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত হতাহতের কোনো নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা না হলেও বিভিন্ন হাসপাতাল থেকে জানানো হয়েছে, আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং নিহতদের শনাক্তের প্রক্রিয়া চলছে।
দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত নয়। ভারতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (DGCA) একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, টেক-অফের সময় যান্ত্রিক ত্রুটি অথবা বার্ড হিট (পাখির ধাক্কা) থেকে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে।
আহত যাত্রীদের স্বজনদের সহায়তার জন্য আহমেদাবাদ ও লন্ডনে বিশেষ হেল্পলাইন খোলা হয়েছে। বিমানবন্দর, হাসপাতাল ও প্রশাসনিক ভবনগুলোতে স্বজনরা ভিড় করছেন আশার আলো খুঁজে।
২৪২ জন যাত্রী নিয়ে আকাশে ওড়ার পর হঠাৎ নিভে গেল একটি উড়োজাহাজের স্বপ্ন। এখন প্রশ্ন-যাত্রীদের ভাগ্যে কী ঘটেছে? আন্তর্জাতিক এই ট্র্যাজেডি শুধু ভারত নয়, যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের ওপরেও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বিশেষ করে যদি বিমানে বিদেশি নাগরিকও থাকেন।

সংবাদটি হালনাগাদ করা হবে নতুন তথ্য আসার সঙ্গে সঙ্গেই। সকালের আলো সর্বশেষ পরিস্থিতি আপনাকে জানাবে।


এ জাতীয় আরো খবর