রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ দমনে ৭০০ মেরিন সেনা, ট্রাম্পের কড়া পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ক্ষোভ

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক,
  • ২০২৫-০৬-১০ ১২:৩২:০৯
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা, ১০ জুন ২০২৫
যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে অভিবাসনবিরোধী নীতি ঘিরে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ দমনে এবার মেরিন সেনা মোতায়েন করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ৭০০ মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি আবারও রাজনৈতিক মঞ্চে সক্রিয় হয়েছেন।
এই সিদ্ধান্তকে ‘উদ্বেগজনক এবং অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। তিনি বলেন,
“রাজ্যের মতামত উপেক্ষা করে ফেডারেল সেনা মোতায়েন করা সংবিধান পরিপন্থী। এ বিষয়ে আমরা আইনি পদক্ষেপ বিবেচনা করছি।”
টানা চারদিন ধরে চলা বিক্ষোভে ইতোমধ্যে ৩০০ জনের বেশি বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অনেক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মহল।
বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ার টেলিভিশন সাংবাদিক লরেন টোমাসি রাবার বুলেটের আঘাতে গুরুতর আহত হলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়। একই ঘটনায় ব্রিটিশ আলোকচিত্রী নিক স্টার্ন স্পঞ্জ-ও আহত হন। তাদের পরিধানে স্পষ্টভাবে "PRESS" লেখা ছিল, তবুও তারা পুলিশের টার্গেটে পরিণত হন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সাধারণত দুর্যোগ বা আন্তর্জাতিক সঙ্কটে মোতায়েন হওয়া মেরিন সেনাবাহিনীকে এবার বিক্ষোভ দমনে নামানো প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর আগে ন্যাশনাল গার্ডের ২ হাজার ১০০ সদস্য মোতায়েন করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে-
“স্থানীয় বাহিনীকে সহায়তা এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে মেরিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে।”
কিন্তু সমালোচকরা বলছেন, এই পদক্ষেপ ‘অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগের’ উদাহরণ, যা গণতান্ত্রিক প্রতিবাদকে দমন করার এক ধরনের হুমকি।
রোববার দিনভর বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। ১০১ ফ্রিওয়ে সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পুলিশ জানায়, কিছু বিক্ষোভকারী অশ্বারোহী টহল দলের বিরুদ্ধে দাহ্য বস্তু ব্যবহার করেছে। গাড়িতে আগুন দেওয়া হয়, দোকানে লুটপাট হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ফ্ল্যাশ ব্যাং গ্রেনেড ও মরিচ গুঁড়া স্প্রে ব্যবহার করে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, “রাস্তায় চলা বিশৃঙ্খলা যেন যুদ্ধক্ষেত্র মনে হচ্ছিল। হেলিকপ্টার ঘোরাফেরা করছিল, কাঁদানে গ্যাস ছোঁড়া হচ্ছিল।”
ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “বিক্ষোভ যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে যা যা করা দরকার, সব করব। যুক্তরাষ্ট্রে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করব।”
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ তার নির্বাচনী প্রচারণার অংশ, যেখানে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষার কঠোর বার্তা দিচ্ছেন। তবে এতে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মুখে পড়ছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ দমন করতে সেনাবাহিনী নামানোর ঘটনাটি আমেরিকার গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের চর্চায় প্রশ্ন তুলেছে। অভিবাসন, মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতার ইস্যুতে যখন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব দাবি করে, তখন নিজ দেশে সাংবাদিক নিগ্রহ ও শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমনে সেনা নামানো এক ধরণের নৈতিক দ্বিচারিতা বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ঘরোয়া সংকট সামাল দিতে সেনা নয়, সংলাপ প্রয়োজন-এমনই বার্তা দিচ্ছে মানবাধিকার সংস্থাগুলো।


এ জাতীয় আরো খবর