সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

আবারও বারুদের স্তুপে মণিপুর: ইম্ফলে বিক্ষোভ,ইন্টারনেট বন্ধ,কারফিউ জারি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৮ ১৫:০১:৩৫
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা- ৮ জুন ২০২৫
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুর যেন আর শান্তি ফিরিয়ে আনতে পারছে না। বছরের পর বছর ধরে জাতিগত সংঘাত আর নিরাপত্তাহীনতার ছায়া ঘনিয়ে রয়েছে রাজ্যজুড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় আবারও অশান্ত হয়ে উঠেছে মণিপুরের রাজধানী ইম্ফলসহ বেশ কয়েকটি এলাকা।
গত শনিবার বিকেল থেকে হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি, বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয় ইম্ফল। সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ করে দিয়েছে এবং বিষ্ণুপুর জেলায় জারি করেছে কারফিউ।
নতুন করে অশান্তির মূল উৎস মেইতেই গোষ্ঠীভুক্ত আরামবাই টেংগোল সংগঠনের পাঁচ সদস্যের গ্রেপ্তার।
তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তারা কোয়াকেইথেল পুলিশ পোস্টে হামলা চালিয়েছিল। এ তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই ইম্ফলে ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা।
বিক্ষুব্ধ জনতা তাদের মুক্তির দাবিতে রাস্তায় নামে, টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদ জানায়, বিভিন্ন রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করে।
পুলিশ বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গুলি চালায়। সংঘর্ষে আহত হন দুই সাংবাদিকসহ তিনজন।
স্থানীয়দের দাবি, ইম্ফলের বিভিন্ন এলাকায় গুলির শব্দ শোনা গেছে।
রাজ্যজুড়ে অশান্ত পরিস্থিতিতে পুলিশ ও প্রশাসন জরুরি ভিত্তিতে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়, যা আগামী পাঁচদিন বহাল থাকবে।
ইম্ফল পূর্ব, ইম্ফল পশ্চিম, থৌবল, কাকচিং ও বিষ্ণুপুর জেলায় ৫ জন বা তার অধিক জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও কমিশনারের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উস্কানিমূলক বক্তব্য, ভিডিও ও গুজব ছড়িয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলার চেষ্টা হতে পারে।
সেই কারণেই ইন্টারনেট বন্ধ রেখে অবাঞ্ছিত প্রচারণা রোধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।
বিক্ষোভের চিত্র আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে যখন আরামবাই টেংগোল প্রধান কানন সিংয়ের মুক্তির দাবিতে একদল যুবক নিজেদের গায়ে পেট্রোল ঢেলে আত্মাহুতির হুমকি দেয়।
এনডিটিভির বরাতে জানা গেছে, কানন সিংয়ের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে এক পুলিশ কর্মকর্তার বাড়িতে হামলা ও অপহরণে নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
২০২৩ সালের মাঝামাঝি সময় থেকেই মেইতেই ও কুকি গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত মণিপুরে সহিংসতার আগুন জ্বালিয়ে রেখেছে। প্রায় প্রতিটি ঘটনা একে অপরের প্রতিশোধের ধারাবাহিকতা হয়ে উঠেছে।
রাজ্য প্রশাসন বারবার দাবি করলেও বাস্তবে সম্প্রদায়গত শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।
ঘটনার পর থেকে বিষ্ণুপুর জেলায় কারফিউ জারি করা হলেও স্থানীয় মানুষের আশঙ্কা,পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।
বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ালে পরিস্থিতি আবারও সহিংসতায় রূপ নিতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজ্য সরকারের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের শক্ত অবস্থান ও হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছে স্থানীয় রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
আবারও প্রমাণ হয়ে গেল, মণিপুরে শান্তির অবস্থান এখনও অত্যন্ত নড়বড়ে।
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, জাতিগত সমন্বয় এবং ন্যায়ের অভাব-এই তিন মূর্তিমান সমস্যাই ক্রমাগত রাজ্যটিকে ঠেলে দিচ্ছে সহিংসতার চক্রে।
আগামী কয়েকদিন পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার অপেক্ষা।

 


এ জাতীয় আরো খবর