সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

গাজায় এক প্যাকেট বিস্কুট ৩৩০০ টাকা! অনাহার আর মৃত্যুর দুঃস্বপ্নে বন্দি এক মানবসভ্যতা

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৮ ০১:৪১:২৭
ফাইল ছবি

গাজা-এক সময় যে উপত্যকা ছিল ভূমধ্যসাগরের কোলে শান্তির প্রতীক, আজ তা পরিণত হয়েছে এক ভয়ঙ্কর মানবিক জাহান্নামে। খাবার যেখানে স্বপ্ন, বেঁচে থাকা সেখানে অলৌকিক। প্রতিদিনের সকালই যেনো এক যুদ্ধের শুরু, আর রাত শুধু ধ্বংসস্তূপে বিলীন হওয়া বেঁচে থাকার সংগ্রাম।
গাজার নাগরিকদের জীবন এখন বিস্ময়কর দামের খাদ্যপণ্যের সঙ্গে টিকে থাকার লড়াই। সম্প্রতি একটি ভাইরাল পোস্টের সূত্র ধরে জানা গেছে, ভারতীয় ‘পার্লে জি’ বিস্কুটের একটি ছোট প্যাকেট গাজায় বিক্রি হচ্ছে ২৪ ইউরোতে, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৩৩০০ টাকা! একটি বিস্কুটের প্যাকেট যেখানে বিলাসিতা, সেখানে শিশুদের জন্য একবেলা খাবারও এক অলীক আকাঙ্ক্ষা।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘এনডিটিভি’ প্রকাশ করেছে গাজার বর্তমান বাজারদর, যা পৃথিবীর অন্যতম মহামূল্যবান জীবনের এক রূঢ় বাস্তবতা তুলে ধরেছে:
এক লিটার তেলের দাম: ৬,০০০ টাকা
এক কেজি ময়দা: ২,১০০ টাকা
এক কেজি লবণ: ৭০০ টাকা
এক কেজি আলু: ২,৮০০ টাকা
এক কেজি টমেটো: ১,৫৭৪ টাকা
মুসুর ডাল (১ কেজি): ১,২২৪ টাকা
এক কেজি মাংস: ৭০০ টাকা (যদিও তা দুর্লভ)

এই দামে খাবার কেনা তো দূরের কথা, গাজাবাসীর পক্ষে একমুঠো ভাত জোগাড় করাই আজ এক কঠিন চ্যালেঞ্জ।
গাজার নাগরিকদের দুর্দশা এখানেই শেষ নয়। ইসরাইলি অবরোধে বহুদিন ত্রাণ প্রবেশ বন্ধ ছিল। সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক চাপের মুখে সীমিত পরিসরে ত্রাণ প্রবেশের সুযোগ মিললেও তা চাহিদার তুলনায় অতি সামান্য।
একদিকে প্রতিদিনের বোমা হামলা, অন্যদিকে অর্থনৈতিক অবরোধ-এই দুইয়ের চাপে চুরমার হয়ে গেছে গাজার অর্থনীতি। হাজার হাজার মানুষ কাজ হারিয়েছেন, দোকানপাট ধ্বংস হয়ে গেছে, শিল্প-কলকারখানা বন্ধ। ফলে গাজায় আজ আয়হীন মানুষের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়েছে। আর হাতে টাকা না থাকলে হাজার টাকার আলু কিংবা বিস্কুট কিনে খাবে কীভাবে?
খাবার না পেয়ে অনাহারে কঙ্কালসার হচ্ছে শিশু-কিশোররা। ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, গত কয়েক মাসে অনাহার ও অপুষ্টিজনিত কারণে শিশু মৃত্যুর হার বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। মা-রা চোখের সামনে সন্তান শুকিয়ে যেতে দেখলেও কিছুই করার নেই। ত্রাণশিবিরে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক সময় এক মুঠো চাল জোটে না।
জাতিসংঘ সহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংস্থা গাজার মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। কিন্তু উদ্বেগে পেট ভরে না, মৃত্যু থেমে থাকে না। সাহায্য প্রয়োজন খাবার,পানি, ওষুধ ও নিরাপত্তার। আর সে সহায়তা পৌঁছাতে গেলে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা, যা বহুক্ষেত্রে অনুপস্থিত।
বিশ্বজুড়ে নানা দেশে যুদ্ধবিরোধী আন্দোলন হলেও গাজাবাসীর কণ্ঠ যেনো এই ভয়ার্ত পৃথিবীতে হারিয়ে যাচ্ছে। যেখানে এক বোতল তেল কিনতে লাগে ছয় হাজার টাকা, সেখানে শিশুদের জন্য পুষ্টিকর খাবার কীভাবে জোগাড় হবে?
কাজ নেই, আয় নেই, ত্রাণ অপ্রতুল
প্রতিদিন অনাহারে কাতরাচ্ছে শিশু-কিশোররা
এই বাস্তবতা শুধুই একটি জনগোষ্ঠীর নয়-এটি পুরো মানবতার ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। গাজা এখন কেবল ভূখণ্ড নয়, একটি অমানবিক বাস্তবতার নাম।

 


এ জাতীয় আরো খবর