রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

তুরস্কে ভয়াবহ ভূমিকম্পে কিশোরীর মৃত্যু, আহত অন্তত ৭০

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৬-০৩ ১৪:২৬:৫৪
ফাইল ছবি

দক্ষিণ-পশ্চিম তুরস্কের জনপ্রিয় পর্যটন শহর মারমারিস উপকূলে মঙ্গলবার ভোররাতে শক্তিশালী ৫.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে প্রাণ হারিয়েছে ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরী। আতঙ্কে ঘর ছেড়ে পালানোর সময় আহত হয়েছেন অন্তত ৭০ জন।
তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আলি ইয়ারলিকায়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) এক বিবৃতিতে জানান, “রাতের ঘুম ভেঙে আতঙ্কে মানুষ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে, অনেকেই উঁচু জায়গা থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হয়েছেন। তবে বড় কোনো স্থাপনার ধ্বংসের খবর পাওয়া যায়নি।”
ভূমিকম্পের সময় আতঙ্কে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আফরানুর গুনলু নামের মাত্র ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর। ফেথিয়েতে বসবাসরত ওই কিশোরীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, আহতদের মধ্যে ১৪ জনকে ঘটনাস্থলেই প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
৮ জনকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়
৪৬ জন এখনো হাসপাতালে ভর্তি
তুরস্কের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (AFAD) জানায়, স্থানীয় সময় রাত ২টা ১৭ মিনিটে এই ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। কম্পনের উৎপত্তিস্থল ছিল মারমারিস উপকূল থেকে মাত্র ১০ কিলোমিটার দূরে, সমুদ্রের নিচে।
ভূমিকম্পটি আঘাত হেনেছে তুরস্কের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন এলাকা মারমারিস, বোদরুম এবং ফেথিয়েতে। এই এলাকাগুলো ২০২৪ সালে প্রায় ৩.৭ মিলিয়ন বিদেশি পর্যটক আকর্ষণ করেছিল বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আনাদোলু।
স্থানীয়দের পাশাপাশি বহু পর্যটকও আতঙ্কে হোটেল ও রিসোর্ট ছেড়ে রাস্তায় নেমে আসেন। যদিও স্থায়ী ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া না গেলেও রাতভর থেকে যায় আতঙ্কের ছায়া।
তুরস্ক একটি ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ। ২০২৩ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে প্রাণ হারিয়েছিল ৫০ হাজারের বেশি মানুষ। বারবার এমন বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও পর্যাপ্ত আগাম সতর্কতা ও অবকাঠামোগত প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নতুন করে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা AFAD এবং স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক উদ্ধার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় জরুরি সহায়তা তহবিল খোলা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি না হলেও প্রাণহানির ঘটনা এবং আহতের সংখ্যা ভবিষ্যতে প্রস্তুতির ঘাটতি নিয়ে আবারও প্রশ্ন তুলে দিল।

 


এ জাতীয় আরো খবর