রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

ইস্তাম্বুলে শান্তি আলোচনার অগ্রগতি: ইউক্রেন-রাশিয়া বন্দি বিনিময়ে রাজি

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৬-০৩ ০১:৫৯:৫৫
ছবি সংগৃহিত

দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার পর অবশেষে বন্দি বিনিময়ে একমত হয়েছে ইউক্রেন ও রাশিয়া। সোমবার তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় দফার শান্তি আলোচনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, “আমরা শিগগিরই নতুন বন্দি বিনিময় কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছি।”

তুরস্কের মধ্যস্থতায় আয়োজিত এই বৈঠকটি ছিল গত মাসের পর দ্বিতীয় প্রয়াস। প্রথম দফার আলোচনা উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি ছাড়াই শেষ হলেও এবার উভয় পক্ষ কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নিতে সম্মত হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি সাম্প্রতিক উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে একটি ইতিবাচক কূটনৈতিক ইঙ্গিত। ইউক্রেন ও রাশিয়া উভয়ের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধে জড়ানোর দুই বছরেরও বেশি সময় পর এই সম্মতি কিছুটা হলেও মানবিক স্বস্তি দিতে পারে।
ইস্তাম্বুলের আলোচনায় মধ্যস্থতাকারী হিসেবে তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকা উল্লেখযোগ্য। আন্তর্জাতিক পরিসরে তুরস্কের এই উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। এর আগেও দেশটি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সময় শস্য চুক্তিসহ বিভিন্ন মানবিক উদ্যোগে মধ্যস্থতা করেছে।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি স্পষ্ট না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, উভয় পক্ষ শতাধিক সামরিক ও বেসামরিক বন্দি বিনিময় করতে পারে। ইউক্রেনের জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি সূত্র বলছে, তালিকা প্রস্তুতের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যদিও এই বন্দি বিনিময় চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার দিক নির্দেশ করে না, তবে এটি পারস্পরিক আস্থার সূচনা হতে পারে। যুদ্ধবিরতির জন্য আরও কঠিন রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। তবে মানবিক ইস্যুতে সম্মতির মাধ্যমে ভবিষ্যতের জন্য ইতিবাচক আলোচনার পথ কিছুটা খুলেছে।
২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে কয়েক দফা আলোচনা হলেও উল্লেখযোগ্য শান্তি চুক্তি হয়নি। উভয় পক্ষের হাজারো সেনা ও বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ বন্দি হয়েছেন। এখন পর্যন্ত সীমিত আকারে কয়েকটি বন্দি বিনিময় হলেও তা ছিল বিক্ষিপ্ত ও অনানুষ্ঠানিক।
জেলেনস্কি সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিয়েভ মানবিক ইস্যুগুলোতে সমঝোতা করতে আগ্রহী, তবে সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডগত অখণ্ডতার প্রশ্নে কোনো আপস করবে না।
বন্দি বিনিময়ের খবরে জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিব এক বিবৃতিতে বলেন, “এটি মানবিক মূল্যবোধ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।” ইউরোপীয় কূটনৈতিক পরিষদও এই উদ্যোগকে ‘কৌশলগত শান্তির সূচনা’ হিসেবে দেখছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর