শনিবার, মে ৩০, ২০২৬

বাংলাদেশকে ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে রূপান্তরের ডাক: চীনা বিনিয়োগকারীদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আহ্বান

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৬-০১ ১৪:৫৩:৩৫
ছবি সংগৃহিত

ঢাকা | ১ জুন ২০২৫ |

বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক মানের উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চীনা উদ্যোক্তাদের প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রবিবার ঢাকায় দিনব্যাপী আয়োজিত ‘চীন-বাংলাদেশ ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্মেলন’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান। রাজধানীর বিনিয়োগ ভবনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলন যৌথভাবে আয়োজন করে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), চীনের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় এবং ঢাকাস্থ চীনা দূতাবাস।
ড. ইউনূস বলেন, “আমরা প্রথমবারের মতো এত বৃহৎ পরিসরে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের একত্রিত করেছি। এটি একটি সূচনা মাত্র। সামনের দিনে চীন ও বাংলাদেশ আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে তৈরি পোশাক, কৃষি, জ্বালানি, পাট এবং তথ্যপ্রযুক্তিসহ বহু সম্ভাবনাময় খাত রয়েছে। আমাদের ৫০ শতাংশ জনশক্তি ৩০ বছরের নিচে—এটাই আমাদের শক্তি। এই তরুণদের দক্ষতা কাজে লাগাতে আজ আপনাদের বিনিয়োগ প্রয়োজন।”
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ ও সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে ইউনূস বলেন, “চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। এখন সময় ভবিষ্যৎ বিনিয়োগ ও সহযোগিতার দ্বার উন্মোচনের।”
সম্মেলনে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েনতাও, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনে চীনের প্রায় ১০০ কোম্পানির ২৫০ জনেরও বেশি বিনিয়োগকারী ও কর্পোরেট প্রতিনিধি অংশ নেন। তাদের মধ্যে ছয় থেকে সাতটি প্রতিষ্ঠান ফরচুন ৫০০ তালিকাভুক্ত।
দিনব্যাপী সম্মেলনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত হয় পাঁচটি পৃথক ‘ম্যাচমেকিং সেশন’। যেখানে বাংলাদেশের উদ্যোক্তা ও সরকারি প্রতিনিধিদের সঙ্গে চীনা বিনিয়োগকারীরা খাতভিত্তিক আলোচনায় অংশ নেন। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল—তৈরি পোশাক ও বস্ত্র, কৃষি প্রক্রিয়াকরণ, তথ্যপ্রযুক্তি, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাত।
বিনিয়োগ সম্মেলনটির উদ্দেশ্য ছিল—বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরা এবং চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি বিশ্বাসযোগ্য গন্তব্য হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা করা। আয়োজকরা আশা করছেন, এই উদ্যোগ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ককে আরও নতুন মাত্রা দেবে।


এ জাতীয় আরো খবর