করিডোর ইস্যুতে দেশের নিরাপত্তা বা সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন হয়-এমন কোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী অংশ নেবে না বলে জানিয়েছেন সেনা সদরের এক মুখপাত্র। সোমবার এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থান তুলে ধরেন লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. শফিকুল ইসলাম।
তিনি বলেন, “জাতীয় নিরাপত্তা এবং দেশের স্বার্থে সেনাবাহিনী সর্বদা নিরপেক্ষ ও অটল অবস্থানে রয়েছে। করিডোরসহ কোনো ইস্যুতে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়-এমন কিছুতে সেনাবাহিনী সম্পৃক্ত হবে না।”
গত বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতার পর দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নতুন বাস্তবতায় পড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে লে. কর্নেল শফিকুল বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে সেনাবাহিনী সবার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রতিটি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরো জানান, “কেউ যদি সংঘবদ্ধভাবে বিশৃঙ্খলার চেষ্টা করে, তবে সেনাবাহিনী কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।”
চট্টগ্রামের একটি কারখানা থেকে কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) পোশাক উদ্ধারের ঘটনায় সেনাবাহিনী গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এই বিষয়ে ব্রিফিংয়ে বলা হয়, “এটা একটি গুরুত্বপূ্র্ণ বিষয় এবং সেনাবাহিনী তা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।”
ব্রিফিংয়ে সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও আলোচনা হয়। লে. কর্নেল শফিকুল ইসলাম বলেন, “আরসা বাহিনী অস্ত্র নিয়ে টহল দিচ্ছে-এটা উদ্বেগজনক। সীমান্ত পরিস্থিতি এখন বেশ সংবেদনশীল, তবে আমরা সতর্ক রয়েছি। যতক্ষণ শক্তি থাকবে, সীমান্তে দায়িত্ব পালন অব্যাহত থাকবে।”
পুশ-ইন ইস্যুতে সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য, “সীমান্তে অনুপ্রবেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এখন বিজিবি পরিস্থিতি সামলাচ্ছে, তবে প্রয়োজনে সেনাবাহিনী প্রস্তুত আছে।”
সাম্প্রতিক নিরাপত্তা জটিলতা, বিশেষ করে করিডোর, সীমান্ত অনুপ্রবেশ ও অভ্যন্তরীণ উগ্রবাদী তৎপরতার প্রেক্ষাপটে সেনাবাহিনীর এই ব্রিফিং গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে। এতে একদিকে যেমন সেনাবাহিনীর পেশাদার ও নিরপেক্ষ অবস্থান স্পষ্ট হলো, অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও নিরাপত্তা নিয়ে আশ্বাস তৈরি করতে পারে।