ফেসবুক বার্তায় রাজনৈতিক সংকট, সেনাবাহিনী ও নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট অবস্থান ফাইজ তাইয়েব আহমেদের।
ঢাকা, ২৩ মে ২০২৫
চলমান রাজনৈতিক টানাপড়েন, নির্বাচনের ভবিষ্যৎ, সেনাবাহিনীর ভূমিকা এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গতিশীলতা-সবকিছু নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি সরাসরি ও স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফাইজ তাইয়েব আহমেদ।
তিনি জানিয়েছেন, “ড. ইউনূস পদত্যাগ করছেন না। বরং তিনিই এই মুহূর্তে দেশের প্রয়োজন।”
এই বার্তায় আবারও স্পষ্ট হলো-সংকটকালীন সময়ে দায়িত্ব থেকে সরে আসার কোনো পরিকল্পনা নেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের।
“ক্ষমতা নয়, দায়িত্ব গুরুত্বপূর্ণ”-ড. ইউনূসের অবস্থান
ফেসবুক পোস্টে ফাইজ তাইয়েব লেখেন- “ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ক্ষমতার প্রয়োজন নেই। কিন্তু বাংলাদেশের জন্য, শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক উত্তরণ প্রক্রিয়ার জন্য তাঁর প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।”
এই বার্তায় সরকারের ভিতরে কিছু স্থবিরতা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকলেও, তা কাটিয়ে ওঠার জন্য ইউনূস সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ওপর জোর দেন তিনি।
নির্বাচনের টাইমলাইন: এপ্রিল-মে ২০২৬
বিশেষ সহকারীর দাবি অনুযায়ী, “সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করে আগামী এপ্রিল-মের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।”
তিনি আরও বলেন, এ সময়ের মধ্যেই সব যৌক্তিক সংস্কার বাস্তবায়নের পাশাপাশি ‘জুলাই সনদ’ অনুযায়ী কাজ শেষ করার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হবে।
সেনাবাহিনী নিয়ে সরব মন্তব্য-
ফাইজ তাইয়েব সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও খোলাখুলি বক্তব্য দিয়েছেন।
তিনি বলেন, “সেনাবাহিনী রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না। কোনো সভ্য দেশে এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
তবে, একই সঙ্গে তিনি সেনাবাহিনীর প্রতি সম্মান বজায় রাখার আহ্বানও জানিয়েছেন-
“সেনাবাহিনীকে আস্থায় রাখতে হবে, সম্মান দেখাতে হবে। কিন্তু হঠকারি কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।”
সেনাপ্রধানের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন সংক্রান্ত বক্তব্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সেটি একটি জুরিশডিকশনাল কারেক্টনেসের ঘাটতি। নির্বাচন আয়োজন ও সময় নির্ধারণের দায়িত্ব সরকারের।”
“আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চলবে না”
বর্তমান সরকারকে সাবধানী হতে বলেছেন ফাইজ তাইয়েব। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “ইনক্লুসিভনেসের নামে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চাওয়া যাবে না। তারা স্বৈরতন্ত্র ও রক্তপিপাসার প্রতীক হয়ে গেছে।”
এই বক্তব্যে বোঝা যায়-বর্তমান সরকার ‘সমঝোতা’ নয়, সংস্কার ও বিচারের পথেই এগোতে চায়।
আগস্টের মধ্যে ‘হাসিনার বিচার শুরু’ প্রত্যাশা
সবচেয়ে আলোচিত অংশ ছিল ফাইজ তাইয়েবের মন্তব্য, যেখানে তিনি বলেন, “আগস্টের মধ্যেই স্বৈরাচারী খুনি হাসিনার বিচারের প্রথম রায়টি আলোর মুখ দেখবে বলে আশা করি।”
এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয়, বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম দ্রুতই দৃশ্যমান হতে পারে।
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উদযাপনের ঘোষণা
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আগামী জুলাই-আগস্টে দুই মাসব্যাপী জাতীয় উদযাপন কর্মসূচি গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
এটি অন্তর্বর্তী সরকারের ‘জনগণের প্রতিনিধিত্ব’ দাবি প্রমাণ করার একটি গুরুত্বপূর্ণ কৌশল হতে পারে।
ফেসবুক পোস্টে প্রশাসনের নীতি স্পষ্ট
ফাইজ তাইয়েবের এই স্ট্যাটাসে যা স্পষ্ট:
ড. ইউনূস পদত্যাগ করছেন না
নির্বাচন এপ্রিল-মে ২০২৬
সেনাবাহিনী রাজনীতিতে ‘নো এন্ট্রি’
আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন নয়, বিচারের মুখোমুখি
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান’ উদযাপন রাষ্ট্রীয়ভাবে
সরকার আরও সক্রিয় ও দৃশ্যমান হবে
বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও সংলাপ জরুরি
এই পোস্টে শুধু ব্যক্তিগত মতামত নয়, উঠে এসেছে এক প্রশাসনিক দর্শন-একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক উত্তরণ, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার রূপরেখা।
ফাইজ তাইয়েব আহমেদের এই বক্তব্য দেশবাসীর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেও রাজনৈতিক বার্তা পাঠাবে-ড. ইউনূস নেতৃত্বাধীন সরকার সহজে হার মানতে আসেনি।
“ইনকিলাব জিন্দাবাদ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ।” দিয়ে শেষ হওয়া বার্তাটি তাই শুধু আবেগ নয়, এক শক্ত অবস্থানও।