রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

ইসি পুনর্গঠন ও স্থানীয় সরকার নির্বাচনের দাবিতে এনসিপির উত্তাল বিক্ষোভ,ক্ষোভে ফুঁসছে রাজপথ

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-২১ ১২:৪৪:৫৫
ছবি সংগৃহিত

রাজধানীর আগারগাঁও আজ আবারও মুখরিত-দাবি একটাই, নির্বাচন কমিশনের পুনর্গঠন এবং অবিলম্বে স্থানীয় সরকার নির্বাচন। বুধবার (২১ মে) দুপুরে আগারগাঁওয়ের নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে জাতীয় নাগরিক কমিটি (এনসিপি) আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এই দাবিগুলো জোরালোভাবে তুলে ধরা হয়।
ঢাকা মহানগর এনসিপির আয়োজনে আয়তাকার ব্যানার, লাল-সবুজ পতাকা আর গর্জন-স্লোগানে রাজপথ কাঁপিয়ে দেয় শত শত নেতাকর্মী। ‘আপস নয় সংগ্রাম’, ‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন চাই’, ‘আজাদি আজাদি’-এইসব স্লোগান আকাশে ছড়িয়ে পড়ে রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্রে।
এনসিপি নেতাদের অভিযোগ, বর্তমান নির্বাচন কমিশন জনআস্থাহীন, পক্ষপাতদুষ্ট এবং ন্যূনতম নিরপেক্ষতার যোগ্যতাও হারিয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংক্রান্ত সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এই ক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করে।
সমাবেশে মিরপুর মডেল থানার প্রতিনিধি সাইফুল ইসলাম বলেন, "সিটি করপোরেশনের বিষয়ে ইসি যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা শুধু বিতর্কিত নয়, জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা। সারাদেশে স্থানীয় সরকার নেই বললেই চলে। নাগরিক সেবা আজ মুখ থুবড়ে পড়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়া এর সমাধান নেই।"
সমাবেশে উঠে আসে বাংলাদেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রতি তীব্র অসন্তোষ। গুলশান থানার প্রতিনিধি নূর ইসলাম জুয়েল বলেন, "একদল লুটেছে ১৭ বছর, আরেক দল অপেক্ষায় ক্ষমতার। কিন্তু আমরা এই দুই ধারার বাইরে নতুন একটি গণআন্দোলন গড়ে তুলেছি। আমাদের দরকার নতুন সংবিধান-সেই ভিত্তিতেই হতে হবে স্থানীয় নির্বাচন। না হলে জাতীয় নির্বাচনও হবে অবৈধ।"
তিনি আরো বলেন, "জনগণ রাস্তায় নেমেছে, রাজনীতির নিয়ন্ত্রক আর দলীয় নেতারা নন-নিয়ন্ত্রক হবে জনগণ।"
"১৬ বছর যারা কিছু করতে পারেনি, আজ তারা জনগণের মুখপাত্র সেজেছে। এক বালুর ট্রাক সরাতে পারেননি, অথচ বিপ্লবের বুলি আওড়ান। আমাদের আন্দোলনের কারণেই আপনাদের নেত্রী চিকিৎসার সুযোগ পেয়েছেন। ইতিহাস কেউ ভোলে না,"-এভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন এক বক্তা।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা মুখর ছিলেন নানা স্লোগানে:‘আপস নয় সংগ্রাম, সংগ্রাম সংগ্রাম’,‘নতুন ফ্যাসিস্টের ঠিকানা-এই বাংলায় হবে না’,‘নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করতেই হবে’।
এই স্লোগানগুলো যেন রাজপথে প্রতিধ্বনি তোলে একটি নতুন রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার-বিকল্প ধারার।
বিক্ষোভ ঘিরে আগারগাঁওয়ে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, আনসার ও কোস্ট গার্ড সদস্যদেরও দেখা গেছে সেখানে। পরিস্থিতি যাতে অনিয়ন্ত্রিত না হয়, সে জন্য কঠোর নজরদারিতে ছিল পুরো এলাকা।
এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, "বিক্ষোভ শান্তিপূর্ণভাবে শেষ করার ব্যাপারে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা আমাদের অগ্রাধিকার।"
জাতীয় রাজনীতিতে যখন ভোট ও নির্বাচনের প্রশ্ন ঘিরে ব্যাপক অনিশ্চয়তা, তখন রাজপথে এনসিপির মতো নাগরিক সংগঠনের এমন সরব উপস্থিতি নিঃসন্দেহে বার্তাবাহী। তাদের দাবি শুধু নির্বাচন নয়, একটি নবায়িত রাজনৈতিক চুক্তি-যার কেন্দ্রে থাকবে জনগণের ক্ষমতা, বিকেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহি।
এই বিক্ষোভ কি তাহলে এক নতুন রাজনৈতিক আবহের সূচনা? উত্তর সময়ই দেবে, তবে রাজপথ বলছে-বিকল্পের পথ তৈরি হচ্ছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর