রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

পাকিস্তানের ইতিহাসে দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল হলেন আসিম মুনির

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • ২০২৫-০৫-২১ ০১:০৮:১৫
ছবি সংগৃহিত

পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর ইতিহাসে একটি নতুন অধ্যায় রচিত হলো। দীর্ঘ ৬০ বছর পর, দেশের দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে সর্বোচ্চ সামরিক পদ 'ফিল্ড মার্শাল' র‌্যাংক অর্জন করলেন সেনাপ্রধান জেনারেল সৈয়দ আসিম মুনির। ভারতের সঙ্গে সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিচালিত অভিযানে তাঁর ‘সাহসী ও কৌশলী নেতৃত্ব’কে স্বীকৃতি দিয়ে এই বিরল সম্মাননা দিল পাকিস্তানের মন্ত্রিপরিষদ।
মঙ্গলবার (২০ মে) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে এক বিবৃতিতে এই পদোন্নতির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সাম্প্রতিক ‘অপারেশন বুনইয়া-নুম-মারসুস’ এবং ‘মারকা-ই-হক’ অভিযানে জেনারেল মুনিরের ভূমিকাই তাকে এই অভিজাত র‌্যাংক এনে দিয়েছে। সরকারি বিবৃতিতে বলা হয়, "সীমান্তে শত্রুর অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে তাঁর দুর্দান্ত সাহসিকতা ও যুদ্ধকৌশল পাকিস্তানের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অবদান রেখেছে।"
মন্ত্রিসভা মনে করে, আসিম মুনিরের দৃঢ় নেতৃত্ব না থাকলে সাম্প্রতিক হামলাগুলোর জবাবে এতো সংগঠিত প্রতিরোধ সম্ভব হতো না। তাঁর কৌশলগত সমন্বয় এবং সেনাবাহিনীর সম্পৃক্ততা পাকিস্তানকে বিজয়ের দিকে নিয়ে গেছে।
এই পদমর্যাদা এতটাই বিরল যে, পাকিস্তানে এখন পর্যন্ত কেবল একজন ব্যক্তি-সাবেক প্রেসিডেন্ট ও স্বৈরশাসক জেনারেল আইয়ুব খান-এই সম্মান পেয়েছিলেন, তাও ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর। এবার আসিম মুনির হলেন দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি একই সম্মাননা অর্জন করলেন।
এই বিরল পদোন্নতির প্রতিক্রিয়ায় আসিম মুনির বলেন, "এ অর্জন এককভাবে আমার নয়, বরং পাকিস্তানের প্রতিটি শহিদ সেনা, তাদের পরিবার এবং গোটা জাতির সম্মান। লাখো মানুষ যারা পাকিস্তানের জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন, আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই।"
তিনি আরও বলেন, প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার বিশ্বাস ও আস্থার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। “এটি এক ব্যক্তির গৌরব নয়, এটি একটি জাতির প্রতি আস্থার স্বীকৃতি,” বলেন তিনি।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং আইএসপিআর জানায়, ফিল্ড মার্শাল র‌্যাংক দেয়ার মাধ্যমে সরকার এক ঐতিহাসিক বার্তা দিয়েছে-পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী কেবল রণাঙ্গনে নয়, নেতৃত্বেও আন্তর্জাতিক মানে পৌঁছে গেছে।
এছাড়া, একই দিন পাকিস্তান বিমানবাহিনীর প্রধান এয়ার মার্শাল জহর আহমেদ বাবর সিধুর মেয়াদ শেষ হলেও তাকে পুনরায় একই দায়িত্বে বহাল রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে 'অপারেশন বুনইয়া-নুম-মারসুস'-এর সময় সেবা দেওয়া সেনাসদস্য, প্রবীণ সামরিক কর্মকর্তা, শহিদ এবং সাধারণ নাগরিকদের জন্য উচ্চপর্যায়ের রাষ্ট্রীয় পুরস্কার ঘোষণা করেছে সরকার।

একনজরেঃ
আসিম মুনির পাকিস্তানের দ্বিতীয় ফিল্ড মার্শাল
ভারতের সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনায় সফল অভিযানের নেতৃত্বের স্বীকৃতি
সরকার ও সেনাবাহিনীর একযোগে প্রশংসা
শহিদদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও জাতীয় ঐক্যের বার্তা
বিমানবাহিনী প্রধানের মেয়াদ পুনরায় বৃদ্ধি
যুদ্ধকালীন অংশগ্রহণকারীদের জন্য রাষ্ট্রীয় পুরস্কার


এ জাতীয় আরো খবর