সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চারদিনের প্রথম আনঅফিশিয়াল টেস্টে নিউজিল্যান্ড 'এ' দলের বিপক্ষে কিছুটা এগিয়ে থেকেও তৃতীয় দিনের শেষে গিয়ে চাপে পড়ে গেছে বাংলাদেশ ‘এ’ দল। নুরুল হাসান সোহানের অনবদ্য সেঞ্চুরিতে পাওয়া লিড বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি স্বাগতিকরা। ব্যাট হাতে নিক কেলির দৃঢ়তা ম্যাচের রাশ তুলে দিয়েছে সফরকারীদের হাতে।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষে নিউজিল্যান্ড ‘এ’ দলের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২১৬ রান, এগিয়ে ২০৪ রানে। ইনিংসের প্রাণভোমরা হয়ে টিকে আছেন নিক কেলি। তিনি এখনো অপরাজিত ১১৭ রানে, ১৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় সাজানো ইনিংসে ব্যাট করছেন। তাকে সঙ্গ দিচ্ছেন মিচেল হেই, যিনি অপরাজিত ১১ রানে।
বাংলাদেশ দিনের শুরুতে ভালো সূচনা করলেও শেষ পর্যন্ত কেলি ছিলেন অচলাবস্থার ভাঙনের নায়ক। দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট তুলে নিলেও, দ্বিতীয় উইকেটে জো কার্টারের সঙ্গে কেলির ১১৫ রানের জুটি সফরকারীদের শক্ত ভিত গড়ে দেয়। নাঈম হাসান ৫৮ রানে কার্টারকে ফিরিয়ে ভাঙেন এই জুটি।
বাংলাদেশের স্পিনার মুরাদ হাসান একাই তিন উইকেট নিয়ে কিছুটা আশার আলো জ্বালান। তবে কেলিকে থামাতে কোনো বোলারই তেমন সাফল্য পাননি। আগ্রাসী ও টেকসই ব্যাটিংয়ে তিনি প্রতিপক্ষের বিপর্যয় এড়িয়ে যান এবং ইনিংসটিকে বড় দিকে ঠেলে নিয়ে যান।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে নাঈম হাসান ১টি এবং রকিবুল হাসান ১টি উইকেট শিকার করেন।
এর আগে নিজেদের প্রথম ইনিংসে নুরুল হাসান সোহানের ১০৭ রানের দৃঢ় ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ ‘এ’ দল সংগ্রহ করে ২৬৮ রান। ফলে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ইনিংসের ২৫৬ রানের চেয়ে ১২ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।
সোহান ছিলেন দলের জন্য একমাত্র ব্যাটিং স্তম্ভ, যিনি প্রান্ত আগলে স্রোতের বিপরীতে দলকে এগিয়ে নেন। নিউজিল্যান্ডের হয়ে জশ ক্লার্কসন ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বড় ভূমিকা রাখেন।
এখন প্রশ্ন-বাংলাদেশ কী চতুর্থ দিন সকালে দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে নিউজিল্যান্ডকে ২৫০-৩০০ রানে থামাতে পারবে? না হলে সফরকারীরা বড় লক্ষ্য দিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে দিতে পারে স্বাগতিকদের।
দল এখন পুরোপুরি চাপের মুখে। হাতে আর মাত্র পাঁচ উইকেট বাকি থাকলেও কেলির ব্যাট চলতে থাকলে লক্ষ্য গিয়ে দাঁড়াতে পারে ৩৫০-রও বেশি।
বাংলাদেশ ‘এ’ দল প্রথম ইনিংসে লিড নিয়েও যে মনোভাবিক ও কৌশলগতভাবে চালকের আসনে আসতে পারেনি, সেটাই এখন ভাবাচ্ছে টিম ম্যানেজমেন্টকে। বোলারদের লাইন-লেংথের ধারাবাহিকতার অভাব, মাঠে আগ্রাসী শরীরী ভাষার ঘাটতি এবং ফিল্ডিংয়ে কিছু ভুল সিদ্ধান্তে কেলির মতো ব্যাটারের ইনিংস ধীরে ধীরে হুমকিতে পরিণত হয়েছে।
শেষ দিনে ব্যাটিং বিপর্যয় এড়ানোই হবে বড় চ্যালেঞ্জ। কেলিকে দ্রুত ফিরিয়ে দিলে আবার ম্যাচে ফিরে আসতে পারে বাংলাদেশ। কিন্তু যদি কেলি ১৫০ ছাড়িয়ে যান এবং লোয়ার অর্ডার কিছু রান যোগ করে, তাহলে ম্যাচ ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য বড় লক্ষ্য তাড়া করতে হবে স্বাগতিকদের।