ক্লাবের পুনর্জন্ম নয়, যেন পুনরুজ্জীবন। প্রথম মৌসুমেই হ্যান্সি ফ্লিকের স্পর্শে বার্সেলোনা ঘরোয়া ট্রেবল জয়ের মুকুটে জড়িয়ে ফেললো এক গর্বিত ইতিহাস। এস্পানিওলের মাঠে ২-০ গোলের দাপুটে জয়ে লা লিগার ২০২৪-২৫ মৌসুমে দুই ম্যাচ হাতে রেখেই চ্যাম্পিয়ন হলো কাতালান জায়ান্টরা।
বার্সেলোনার এ জয় মানে শুধু আরেকটি শিরোপা নয়-এটি সাম্প্রতিক বছরগুলোর হতাশা, বিশৃঙ্খলা আর ব্যবস্থাপনাগত দোলাচলের বিরুদ্ধে এক কাব্যিক জবাব। ৩৬ ম্যাচ শেষে ৮৫ পয়েন্ট নিয়ে বার্সা পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে, দ্বিতীয় স্থানে থাকা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ৭ পয়েন্ট এগিয়ে।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৩ মিনিটে ম্যাচের অচলাবস্থা ভাঙেন কিশোর বিস্ময় লামিনে ইয়ামাল। ডানদিক থেকে একক চেষ্টায় বল এগিয়ে নিয়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে প্রতিপক্ষের জালে বল জড়ান তিনি। এই মৌসুমে লিগে এটি তার অষ্টম গোল।
যোগ করা সময়ের পঞ্চম মিনিটে ইয়ামালের নিখুঁত পাস থেকেই গোল করেন মিডফিল্ডার ফারমিন লোপেজ, যিনি এই মৌসুমে হঠাৎ করেই হয়ে উঠেছেন বার্সা মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা।
প্রথমার্ধে বার্সেলোনা বল দখলে এগিয়ে থাকলেও গোলের সুযোগ ছিল সীমিত। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে হ্যান্সি ফ্লিকের পজিশনাল প্লে ও হাই প্রেসিং পদ্ধতি পুরো খেলাটার গতি পাল্টে দেয়। ৭৯ মিনিটে ইয়ামালকে ফাউল করে লাল কার্ড পান এস্পানিওলের ডিফেন্ডার লিয়ান্দ্রো কাবরেড়া, এরপর প্রতিপক্ষ আর ফিরে দাঁড়াতে পারেনি।
এই জয়ে বার্সেলোনা জিতে নিল তাদের ২৮তম লা লিগা ট্রফি। শুধু তাই নয়, একবিংশ শতাব্দীতে এটি ক্লাবটির ১২তম লিগ শিরোপা, যেখানে রিয়াল মাদ্রিদ পেছনে পড়ে আছে ৯টি শিরোপা নিয়ে। ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগে বার্সার চেয়ে বেশি লিগ শিরোপা রয়েছে কেবল বায়ার্ন মিউনিখের (১৮টি)।
এই মৌসুমে জানুয়ারিতে স্প্যানিশ সুপার কাপ জেতার পর, মে মাসের শুরুতে কোপা দেল রে জয় করে দ্বিতীয় শিরোপা নিশ্চিত করেছিল বার্সা। লা লিগা জয়ের মধ্য দিয়ে ঘরোয়া ট্রেবল পূর্ণ হলো, যা ফ্লিকের কোচিং ক্যারিয়ারে বড় এক চিহ্ন।
বার্সেলোনা ক্লাব সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার স্থানীয় সময় বিকেলে শহরজুড়ে বিজয় মিছিল করবে ক্লাবটি। পাশাপাশি, রোববার ভিয়ারিয়ালের বিপক্ষে ঘরের মাঠে মৌসুমের শেষ ম্যাচে হবে শিরোপা হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা।
এক নজরে বার্সার মৌসুম:
লা লিগা-চ্যাম্পিয়ন (২ ম্যাচ হাতে রেখেই)
কোপা দেল রে – বিজয়ী
স্প্যানিশ সুপার কাপ – জয়ী
ট্রেবল – ঘরোয়া পর্যায়ে পূর্ণ
বিশ্লেষকদের চোখে বার্সার এই অর্জন নিছক পরিসংখ্যান নয়, বরং অস্থির এক ক্লাব সংস্কৃতির শৃঙ্খলায় ফেরার প্রতীক। লামাসিয়া থেকে উঠে আসা ইয়ামাল-ফারমিনের মতো খেলোয়াড়দের সফলতা ভবিষ্যতের কাতালানদের জন্য আশার আলো।