কুমিল্লা, ১৫ মে ২০২৫
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বর্তমান সরকারকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেছেন, “গত আট মাসেই ৯০ হাজার কোটি টাকা পাচার হয়েছে দেশ থেকে, আর এর সঙ্গে জড়িত সরকারের লোকজন।” বৃহস্পতিবার (১৫ মে) বিকেলে কুমিল্লা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিভাগীয় বিএনপির সদস্য সংগ্রহ ও ফরম বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
মির্জা আব্বাস বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় যেমন হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করেছিল, অন্তর্বর্তী সরকার এলেও সেই চিত্র পাল্টায়নি। বরং দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও গভীর হচ্ছে। সরকারের লোকজন নিজেরাই চাঁদাবাজি আর দুর্নীতিতে জড়িত।”
তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, “তদন্তের মুখে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার হিসাব আজও অজানা রয়ে গেছে কেন? দেশে অভ্যন্তরীণ সংকট বাড়লেও পাচার থামছে না, এতে কার লাভ হচ্ছে?”
আব্বাস বলেন, “অনেকে ভাবছেন, বিএনপির এখন সুসময় চলছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। আমরা এখনো ক্ষমতায় আসিনি, আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও দেশের বাইরে। কাজেই কেউ যদি ভাবেন-এখন সুবিধা নেওয়ার সময়, তাহলে তারা ভুল করছেন।”
এ সময় তিনি দলের অভ্যন্তরে “সুযোগসন্ধানী সুবিধাভোগীদের” অনুপ্রবেশ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, “কিছু ব্যক্তি বিএনপির সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুযোগ নিয়ে চাঁদাবাজি ও দখলবাজিতে লিপ্ত, যার দায় এসে পড়ছে দলের ঘাড়ে।”
বিএনপি নেতা স্পষ্ট বার্তা দিয়ে বলেন, “দলের নাম ভাঙিয়ে যারা চাঁদাবাজি, দখলবাজি বা অনৈতিক কাজ করছেন, তাদেরকে আর ছাড় দেওয়া হবে না। নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকতে হবে এবং এসব অপকর্মকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।”
তিনি আহ্বান জানান, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃত্বকে আরও সক্রিয় এবং দায়িত্বশীল হতে।
আব্বাস বর্তমান সরকারের আমলেও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলে মিডিয়ার কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল, এখনো একই অবস্থা চলছে। গণমাধ্যমগুলো এখনো স্বাধীনভাবে কথা বলতে পারছে না। তাদের মুখে শুধু সরকারের প্রশংসা।”
তিনি দাবি করেন, “যে সরকারের সময় জনগণের কণ্ঠরোধ হয়, সত্য চাপা পড়ে, সে সরকার কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক হতে পারে না।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ও কুমিল্লা বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, যারা সদস্য সংগ্রহ অভিযানকে দল পুনর্গঠনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এই বক্তব্য শুধু একটি রাজনৈতিক পাল্টা অভিযোগ নয়, বরং বর্তমান সরকার ও বিএনপির অন্তর্দ্বন্দ্ব,অনুপ্রবেশকারীদের প্রভাব, এবং মিডিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগগুলোরই ধারাবাহিক প্রতিফলন।
একদিকে সরকারের অর্থনৈতিক ব্যর্থতা ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ, অন্যদিকে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার অভ্যন্তরীণ আহ্বান-এই দ্বিমুখী ভাষ্য বিএনপির আগামী দিনের কৌশলগত অবস্থান ও মাঠে সংগঠন গোছানোর ইঙ্গিতও দেয়।