বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

শুভ জন্মদিন আজিজুল হাকিম

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৫-১৫ ১৯:৩৩:৩৭

টেলিভিশন, চলচ্চিত্র, বেতার, মঞ্চ সবখানে যাঁর সদা পদচারণা তিনি আজিজুল হাকিম।
চিরসবুজ ইমেজকে আজও ধরে রেখেছেন এই অভিনেতা। শোবিজে এমন নজির বিরল। টেলিভিশনে তাঁর চরিত্রের ভিন্নতা স্পষ্ট। ক্রমে ক্রমে একজন শক্তিমান অভিনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন তিনি।
বর্তমানে তাঁর পরিচয় অভিনেতা এবং নির্মাতার প্রতীক হিসেবে। পিতা ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আব্দুল হাকিম, মাতা মরহুম মহিজুন্নেছার যোগ্য সন্তান তিনি। স্ত্রী জিনাত আরা রহমানের (জিনাত হাকিম) গর্বিত স্বামী, একমাত্র আদুরে কন্যা নাযাহর পিতা।
জন্ম ১৫ মে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলার লুটেরচরে। 
স্কুল, কলেজ জীবন শেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স করেন।
আজিজুল ভিজ্যুয়াল মিডিয়া ছাড়াও ১৯৭৭ সাল থেকে ‘আরণ্যক নাট্যদলে’র সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।
১৯৮১ সাল থেকে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের একজন তালিকাভুক্ত শিল্পী। এ পর্যন্ত তিনি এক হাজারের অধিক নাটকে অভিনয় করেছেন।
তিনি আন্তর্জাতিক থিয়েটার ইনস্টিটিউট (আইটিআই) বাংলাদেশ সেন্টারের একজন সদস্য। স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় ‘যেমন খুশি তেমন সাজো’তে অংশগ্রহণই মূলত তাঁর অভিনয়ে আসার প্রথম অনুপ্রেরণা। এরপর স্কুলের সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ, 'এক্টর্স ইকুয়েটি অব বাংলাদেশ’ এর একজন ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ডিরেক্টরস গিল্ড বাংলাদেশ এবং টেনাশিনাস অর্থাৎ টেলিভিশন নাট্যশিল্পী ও নাট্যকার সংস্থার একজন এক্সিকিউটিভ মেম্বার।
দীর্ঘ অভিনয় জীবনের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে তাঁর নির্দেশনায় প্রথম মেগাসিরিয়াল ‘জল পড়ে পাতা নড়ে’। তাঁর মঞ্চ নির্দেশনার দুটি নাটক ‘পাথর’ ও ‘ওরা কদম আলী’।
এছাড়াও তিনি বেশকিছু টিভি নাটক নির্দেশনা দিয়েছেন তার মধ্যে জ্যোৎস্নায় অমানিশা, স্বীকৃতি, মন যেখানে, সিটিজেন, প্রজাপতি মন, নীরব কষ্ট, ভালোবাসার রং উল্লেখযোগ্য।
১৩ পর্বের একটি ধারাবাহিক নাটক ‘যা হারিয়ে যায়’ তাঁরই নির্দেশনায়। এছাড়া ‘শেষ থেকে শুরু’ নামে একটি টেলিফিল্ম পরিচালনা করেছেন। চলচ্চিত্রে সুস্থ ধারার কয়েকটি ছবিতেও তিনি কাজ করেছেন।
‘বৃষ্টি’ নামে একটি ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। তিনি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে জার্মান নির্দেশক ক্রিস বেনিভিৎস এর নাট্য বিষয়ক কর্মশালায় অংশগ্রহণ এবং ফেব্রুয়ারিতে তাঁর নির্দেশিত নাটক বেল্ট ব্রেখটর এর ‘লোক সমান লোক’-এ অভিনয় করেন।
বৃষ্টির চোখে জল, রঙিন স্বপ্ন, শেষ কথা আমেরিকা লন্ডনে বিভিন্ন মঞ্চে অভিনয় করেন।
শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ১৯৯৪ সালে 'যায়াযায়দিন' থেকে অ্যাওয়ার্ড, ১৯৯৬ সালে শেরে বাংলা স্মৃতি পদক, টেলিভিশন রিপোর্টার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ অ্যাওয়ার্ড এবং এ ওয়ান টেলিমিডিয়া স্বাধীনতা অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কার অর্জন করেন আজিজুল হাকিম।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হলো এ দেশে একটি সুন্দর সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরিতে ভূমিকা পালন, নিয়মিত অভিনেতা হিসেবে অভিনয় চালিয়ে যাওয়া, নাট্য নির্দেশনায় কাজ করা চলচ্চিত্র নির্মাণ এবং সামাজিকভাবে দায়বদ্ধ একজন সাংস্কৃতিককর্মী হিসেবে কাজ করে যাওয়া।
সম্প্রতি তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের সম্মানিত সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। 
বর্তমান সময়ে এসে নতুন প্রজন্মের সাথে দাপটের সাথে এখনো তিনি অভিনয় করে চলেছেন বিভিন্ন বেসরকারি টেলিভিশনের নাটকসমুহে।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা। 
 


এ জাতীয় আরো খবর