গত এক সপ্তাহ ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চলছিল তীব্র উত্তেজনা, পাল্টা হামলা এবং সামরিক স্থাপনায় একে অপরকে আঘাত করার ঘটনা। তবে অবশেষে, শান্তির পথে দুই দেশ একসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ভারত এবং পাকিস্তান শনিবার (১০ মে) যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার এক টুইট বার্তায় এই ঘোষণা দিয়েছেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন, “পাকিস্তান এবং ভারত তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে।” শান্তি প্রতিষ্ঠায় পাকিস্তানের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, “পাকিস্তান কখনই নিজের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্নে আপোস করবে না।”
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এক্স প্ল্যাটফর্মে একই ধরনের ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি জানান, দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধবিরতি সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি দীর্ঘ রাতব্যাপী আলোচনার ফল। ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি একটি দৃঢ় পদক্ষেপ, যা আন্তর্জাতিক কূটনীতির জয়।”
ভারতও এই ঘোষণা সমর্থন করেছে। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি জানিয়েছেন, শনিবার বিকেল ৫টা থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী পাকিস্তানের দিকে সব ধরনের গুলি চালানো বন্ধ রাখবে এবং এই সিদ্ধান্তের কথা পাকিস্তানকে জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, "দুই দেশ একে অপরকে যুদ্ধবিরতির বিষয়ে জানাতে যোগাযোগ করেছে এবং নির্দেশনা পৌঁছানো হয়েছে।"
উল্লেখযোগ্য যে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের মিলিটারি প্রধানেরা একে অপরকে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য আগামী সোমবার (১২ মে) আবারও কথা বলবেন।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, ভারত ও পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির পর একটি নিরপেক্ষ স্থানে আলোচনা শুরু করতে সম্মত হয়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের রাষ্ট্রীয় প্রজ্ঞা এবং শান্তির পথে যাত্রাকে প্রশংসা করেছেন।
এই যুদ্ধবিরতি ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার অবসান এবং শান্তির নবযাত্রার সূচনা কি না, তা সময়ই বলবে। তবে, এই পদক্ষেপ থেকে যা স্পষ্ট, তা হলো-শান্তির জন্য আন্তর্জাতিক চাপ এবং দ্বিপক্ষীয় আলোচনা একটি কার্যকর সমাধান আনতে সক্ষম হয়েছে।