পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক অভিযান বন্ধ হওয়ার পর দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ শনিবার (১০ মে) ঘোষণা করেছে যে, সমস্ত ধরনের ফ্লাইটের জন্য পাকিস্তানের আকাশপথ এখন উন্মুক্ত করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে পাকিস্তান বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ (পিএএ) জানিয়েছে, দেশের সব বিমানবন্দর স্বাভাবিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।
এটা এমন এক মুহূর্তে ঘটলো, যখন পাকিস্তান ও ভারত দুই পক্ষই সামরিক উত্তেজনা কমানোর জন্য যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় উভয় পক্ষ তাদের বিবৃতিতে এই যুদ্ধবিরতির খবর নিশ্চিত করেছে, যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ার জন্য একটি বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
পাকিস্তানের আকাশসীমা পুনরায় উন্মুক্ত করার পর, দেশটির বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায় যে, দেশের বিমানবন্দরগুলো আগের মতোই বাণিজ্যিক ও বেসামরিক ফ্লাইট পরিচালনায় সক্ষম। তবে, এই ঘোষণার পূর্বে পাকিস্তান গত কয়েকদিন ধরে ভারতে হামলা পাল্টা হামলার কারণে আকাশপথ সাময়িকভাবে বন্ধ করে রেখেছিল।
গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সামরিক বিমান ঘাঁটিতে ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার পর, দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সামরিক অভিযানের ধারাবাহিকতা চলতে থাকে। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় শনিবার উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতির চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়, যা দক্ষিণ এশিয়ায় এক শান্তির পথপ্রদর্শক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই যুদ্ধবিরতির চুক্তি, যেটি “অপারেশন সিঁদুর” এবং “অপারেশন বুনিয়ানুন মারসুস” নামে দুই অভিযানের পরবর্তী পদক্ষেপ হিসেবে এসেছে, তা উভয় দেশের জন্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক অর্জন। তবে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বিশেষভাবে এই শান্তির পথে চলার জন্য পাকিস্তান ও ভারত উভয়কেই আরও সহযোগিতা এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রতি অঙ্গীকার করতে উত্সাহিত করছে।
এখন, যখন পাকিস্তান আবার তার আকাশপথ খুলে দিয়েছে, তা অর্থনৈতিক এবং বাণিজ্যিক সাফল্যের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।