স্বাস্থ্য খাত বদলাতে এবার বড় পদক্ষেপ-অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন তাদের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে।
সোমবার সকাল ১১টায় রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আনুষ্ঠানিকভাবে এ প্রতিবেদন তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার।
২০২৪ সালের ১৭ নভেম্বর, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থায় যুগান্তকারী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে এই ১২ সদস্যের বিশেষ কমিশন গঠন করে সরকার। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন জাতীয় অধ্যাপক ও বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি এ কে আজাদ খান।
কমিশনের বাকি সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বাস্থ্যসেবা, গবেষণা, শিশু, নারী ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞসহ দেশের খ্যাতনামা চিকিৎসা বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা।
এই দলে রয়েছেন যেমন ডা. সায়েবা আক্তার, ডা. নায়লা জামান খান ও অধ্যাপক লিয়াকত আলী-তেমনি রয়েছেন আইসিডিডিআরবি এবং স্কয়ার হাসপাতালের শীর্ষ চিকিৎসকেরাও। স্বাস্থ্যখাতে ভিন্ন প্রজন্মের কণ্ঠ হিসেবে যুক্ত আছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থী উমায়ের আফিফ।
প্রথমে ৯০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও, মাঠ পর্যায়ের তথ্য, পরামর্শ ও সুপারিশ পর্যালোচনায় সময় বাড়ে দুই দফায়। শেষ সময়সীমা ছিল ৩০ এপ্রিল-সময়মতই কমিশন কাজ শেষ করেছে।
এই কমিশনের কাজ ছিল স্বাস্থ্যখাতের দুর্বলতা চিহ্নিত করে একটি কার্যকর রোডম্যাপ তৈরি করা। এতে প্রাধান্য পেয়েছে-
✔ সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়
✔ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্যসেবা
✔ ডাক্তার ও নার্সদের দক্ষতা উন্নয়ন
✔ স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি ও অব্যবস্থাপনার সমাধান
✔ আধুনিক প্রযুক্তি ও ইনফরমেশন সিস্টেম
ড. ইউনূস সরকারের কাছে এই রিপোর্ট এখন বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভিত্তি হতে পারে। তিনি আগেই বলেছেন, স্বাস্থ্যখাতকে টেকসই ও মানবিক করতে হবে-এটা কোনো বিলাসিতা নয়, মানুষের অধিকার।
চোখ এখন প্রধান উপদেষ্টার দিকে-এই প্রতিবেদন কতটুকু বাস্তবায়ন হবে, তা দেখার অপেক্ষায় আছে সারা দেশের মানুষ।