রবিবার, মে ৩১, ২০২৬

আন্তর্জাতিক জলসীমায় ফ্রিডম ফ্লোটিলা জাহাজে হামলা, ইসরায়েলকে দায়ী করল আয়োজক সংগঠন

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • ২০২৫-০৫-০৩ ০২:০১:৪৮
ছবি সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক জলসীমায় মানবিক ত্রাণবাহী একটি জাহাজে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজার উদ্দেশে যাত্রা করা জাহাজটিতে মাল্টা উপকূলে এই হামলা হয়। এতে জাহাজটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং যান্ত্রিকভাবে বিকল হয়ে পড়ে। হামলার জন্য সরাসরি ইসরায়েলকে দায়ী করেছে জাহাজ যাত্রার আয়োজক সংগঠন ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন (FFC)।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে ফ্রিডম ফ্লোটিলা জানায়, বেসামরিক এই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে সশস্ত্র ড্রোন দিয়ে দুই দফা হামলা চালানো হয়। জাহাজের সম্মুখভাগে আঘাত হানায় অগ্নিকাণ্ডের পাশাপাশি কাঠামোয় বড় ধরনের ফাটল দেখা দেয়। বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজটি ভাসমান অবস্থায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জাহাজটি মাল্টা উপকূল থেকে প্রায় ১৪ নটিক্যাল মাইল দূরে অবস্থান করছিল। তাতে গাজার জন্য মানবিক সহায়তা বহনের পাশাপাশি ২১টি দেশের অধিকারকর্মী ও ১২ জন নাবিক ছিলেন। হামলার সময় সবাই নিরাপদে ছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে মাল্টা সরকার। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জাহাজে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আশঙ্কার পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
ফ্লোটিলা সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, ‘আন্তর্জাতিক জলসীমায় এ ধরনের বোমা হামলা সরাসরি আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের শামিল।’ তারা আরও বলেন, ‘গাজার অসহায় জনগণের পাশে দাঁড়ানো এবং অবরোধ ভেঙে মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসেই এই মিশন শুরু হয়েছিল।’
হামলার বিষয়ে ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
এদিকে, জাহাজটি রক্ষায় মাল্টা উপকূলরক্ষীরা দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। একটি টাগবোট পাঠানো হয়েছে জাহাজটিকে নিরাপদ স্থানে টেনে আনার জন্য। হামলার সময় জাহাজে থাকা কর্মীরা জানান, ভোররাতে জেনারেটরে প্রথম আঘাত হানা হয়, যার ফলে জাহাজটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। এরপর সেখানে ধোঁয়া ও বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
এফএফসি আরও জানিয়েছে, গাজায় চলমান অবরোধ ও যুদ্ধাপরাধের প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ এই মানবিক মিশনে অংশ নিয়েছিলেন। তাদের মতে, ইসরায়েলের এই হামলা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও সামুদ্রিক নিরাপত্তার প্রতি সরাসরি অবজ্ঞার বহিঃপ্রকাশ।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। কারণ, মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে হামলার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
গাজায় বর্তমানে খাদ্য, জ্বালানি ও ওষুধের মারাত্মক সংকট চলছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন সংস্থা জানিয়েছে, তাদের মজুদ শেষ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং শিগগিরই বহু সহায়তা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যেতে পারে। গাজা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও বলা হয়েছে, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দুঃস্থদের জন্য রান্নার কেন্দ্রগুলো বন্ধ হয়ে যাবে।
এর আগে ২০১০ সালেও ফ্রিডম ফ্লোটিলা একই উদ্দেশ্যে গাজার উদ্দেশে রওনা হলে তুর্কি জাহাজ ‘মাভি মারমারা’-তে ইসরায়েলি হামলায় ১০ জন নিহত হন। ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশঙ্কায় এবার আন্তর্জাতিক জলসীমায় হামলার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাজায় চলমান যুদ্ধ, নিষেধাজ্ঞা ও মানবিক সঙ্কট শুধু এই উপত্যকাকেই নয়, বরং গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তা, নীতিশাস্ত্র ও মানবিকতাকেই প্রশ্নের মুখে ফেলছে।

 


এ জাতীয় আরো খবর