সোমবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০২৬

কাশ্মীর হামলার পর উত্তপ্ত উপমহাদেশ,পাকিস্তানের সামরিক মহড়া যুদ্ধের বার্তা দিচ্ছে

  • আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
  • ২০২৫-০৫-০২ ০০:৫৩:৩৩
ছবি সংগৃহিত

কাশ্মীরের পহেলগাঁওয়ে সাম্প্রতিক রক্তাক্ত হামলার পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার সম্পর্ক চরম উত্তেজনার পর্যায়ে পৌঁছেছে। পাল্টাপাল্টি অবস্থান আর সামরিক তৎপরতায় উপমহাদেশে যুদ্ধ পরিস্থিতির আশঙ্কা বাড়ছে। এমন মুহূর্তে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক যুদ্ধ মহড়া চালিয়ে যাচ্ছে-যা একটি শক্ত প্রতিরোধের প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম রেডিও পাকিস্তান।
বৃহস্পতিবার (১ মে) আল জাজিরার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, সীমান্তঘেঁষা সিয়ালকোট, নারোওয়াল, জাফরওয়াল ও শাকরগড় এলাকায় এই মহড়াগুলো চালানো হচ্ছে। এতে অংশ নিচ্ছে ট্যাংক, কামান ও বিভিন্ন ধরণের আধুনিক অস্ত্রসমেত পদাতিক বাহিনী। সামরিক মহড়ার মূল প্রতিপাদ্য-'সম্পূর্ণ প্রস্তুতি ও দ্রুত জবাবদিহি'।

‘যেকোনো আগ্রাসনে দাঁতভাঙা জবাব’
পাকিস্তানি নিরাপত্তা সূত্রগুলো বলছে, এই মহড়া কেবল রুটিন নয়, বরং একটি কৌশলগত বার্তা। শত্রুর সম্ভাব্য আগ্রাসনের প্রেক্ষিতে তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী জবাব দিতে সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্কতায় রয়েছে।
সেনাবাহিনীর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “আমরা আলোচনায় বিশ্বাস করি, তবে সীমান্তে যদি আগুন ছড়ায়, আমরা তাকে ধ্বংস করতে প্রস্তুত। মাতৃভূমির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতি প্রশ্নাতীত।”

কাশ্মীরের আকাশে রাফায়েল,পাকিস্তানের পাল্টা সতর্কতা
এর আগে, এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে ভারতীয় রাফায়েল যুদ্ধবিমান কাশ্মীরের আকাশে নজরদারি মিশন চালায় বলে জানায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। ঘটনাস্থল ভারত নিয়ন্ত্রিত হলেও, আকাশসীমার সংবেদনশীলতার কারণে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানায় পাকিস্তান বিমানবাহিনী (পিএএফ)। তারা ভারতের বিমানের গতিপথ পর্যবেক্ষণ করে এবং বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রস্তুত করে।
এই ঘটনার পরপরই পাকিস্তান সেনাবাহিনীর এই টানা মহড়াকে ভারতকে দেওয়া 'নীরব সতর্কতা' হিসেবে দেখছেন সামরিক বিশ্লেষকরা।

মাঠে অস্ত্র,মনে বার্তা
এই মহড়াগুলোর একটি বিশেষ দিক হচ্ছে আধুনিক যুদ্ধকৌশলের বাস্তব অনুশীলন। সেনা, অফিসার ও কৌশলবিদদের মধ্যে এক ধরনের প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব দেখা গেছে। তারা নিজেদের সক্ষমতা এবং মাটির প্রতি দায়বদ্ধতা তুলে ধরেছেন ময়দানে।
রাষ্ট্রীয় সূত্র বলছে, “এই মহড়ার মাধ্যমে শুধু বাহ্যিক শক্তি নয়, দেশের অভ্যন্তরেও এক আত্মবিশ্বাস জাগাতে চায় পাকিস্তান। যেন জাতি বুঝতে পারে, আক্রমণ হলে তারা একা নয়।”

দুই প্রতিবেশী, এক উত্তেজনাময় ভবিষ্যৎ?
কাশ্মীর ইস্যু বহুদিন ধরেই ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কের সবচেয়ে জটিল উপাদান। পহেলগাঁও হামলা সেই জটিলতাকে আবারও তীব্র করে তুলেছে। এখন পর্যন্ত উভয় পক্ষই যুদ্ধ চায় না বললেও, সামরিক প্রস্তুতির মাত্রা বলছে, পরিস্থিতি যে কোনো মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের এই কৌশলগত পাল্টাপাল্টি প্রস্তুতি শুধু সীমান্তেই নয়, সমগ্র দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।


এ জাতীয় আরো খবর