শ্রমিকের দাবি?
ক...ত আর বলো হবে, ন্যায্য পাওয়া পেলে,
উপরি পাওয়া কিঞ্চিৎ যদিও বা ওই কপালে মেলে।
যদি তুমি দাও, দয়ার সাগর, দয়া করে যা দিবে।
হতভাগা ঐ ক্লান্ত শ্রমিক
মাথা পেতে তাই নিবে।
রেষ্টুরেন্টে যাবে বলে যখন হাঁকিয়ে রিক্সার হুড,
দামি পারফিউম মেখে নিলে তুমি
বিন্দাস করে মুড।
কত হলো ভাড়া? আছে বড় তাড়া,
জলদি কর পাজি ছেলে ।
দামি দামি খাবার শেষে হলো বুঝি,
হায়, ভাগ্য যদি না মেলে!
বলিল হেসে রোদে ঘামে ভিজে রিক্সাওয়ালা ভাই,
২৫ টাকা হয়েছে বাবু খুচরা পয়সা নাই।
তেড়ে মেরে জনাব উঠিল খেঁকে,
ছোটলোক বদমাশ।
টাকা দেখলেই লালা পড়ে তোর
ইচ্ছে মতো চাইশ।
বাঁকা ঠোটে হাসে ইতর ছেলেটি,
মাথা নিচু করে কিছু ভাবে।
থাক, লাগবেনা বাবু ক্ষমা করে দেন আজ,
আমার ঠিক চলে যাবে।
আপনাদের টাকা আমরা খাবো না,
খাবে আপনাদের যে যে খাওয়াবে।
কতটাকার মেনু অর্ডার করে খান
বকসিস দেন অনায়াসে,
ওগুলো শুধু দেখিয়ে বেড়ান মহৎ হওয়ার খায়েশে।
তেল মাথায় তেল ঢালেন আপনারা
নিজেদেরই লাভের জন্য,
আমরা হলাম কুকুর বেড়াল পথে পথে ঘুরি হন্য।
কাঠফাটা রোদে
শ্রমিক মায়ের পাথর ভাঙ্গা কি দেখেছেন?
তপ্ত রোঁদে রাস্তায় বসে জুতা পলিসও করেছেন।
ওরাও মানুষ, রক্ত মাংসের ওদেরও স্বপ্ন আছে,
মোটা কাপর আর মোটা ভাতের আশায়
রাত -দিন খেটে যাচ্ছে।
বারোমাস আমরা হাভাতে গরিব
খবর রাখেনা কেউ,
১ লা মে আসলেই দেখি জনসমুদ্রের ঢেউ।
সভা হলো, মিছিল হলো, হাতে হাতে জল খাবার,
দিনটা পার হয়ে গেলেই, যাচ্ছে তাই আবার।
বেশি চাইনা আমরা শ্রমিক
আমাদের ন্যায্য দাবী চাই,
ঘাম শুকানোর আগেই যেনো
দুমুঠো খাবার পাই।