সোমবার, অক্টোবর ৫, ২০২৬

জা য়ে দ ফ রি দ

  • শালডিঙি ও হলদে বোঁটা
  • ২০২৫-০৪-২৯ ১৬:৫০:১২

সোঁদা মাটিতে লম্বা নাক ডুবিয়ে একা একা ঘাটে শুয়ে ছিল ডিঙি নৌকোটা।
জ্যোৎস্নার কাঁথাটা গা থেকে একটু সরে যেতেই সজাগ হল তার ইন্দ্রিয়। কোত্থেকে যেন ভেসে আসছে সেই হলদে-বোঁটা ফুলের ঘ্রাণ। ফুলটাকে সে চিনেছে মাত্র হপ্তা দুয়েক আগে।
নদী পার হতে হতে পাটাতনে বসে এক নায়রি মেয়ের শাড়ি নিয়ে গল্প চলছিল। কী একটা ফুলের বোঁটা দিয়ে হাঁসের পায়ের মতো হলুদ রঙে রাঙিয়েছে তার শাড়ি। সে বসেছিল গলুইয়ের কাছাকাছি, ডিঙিটার নাক বরাবর। একটা মন-কাড়া মিষ্টি ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ছিল তার গা থেকে।
ডিঙির খুব শখ হল─ একবার যদি সে এই ডাঙার ফুলটাকে দেখতে পেত! শাপলা কলমি আর কচুরি ফুলের হালকা জলজ গন্ধ থেকে এই ঘ্রাণটা কত তীব্র, কত স্বতন্ত্র। কিন্তু জন্মের পর থেকে বিশেষ কারণ ছাড়া এ জাতীয় জলচরদের ডাঙায় ওঠা নিষেধ। পূর্বপুরুষদের আমরণ জলে বাস করার এই সিদ্ধান্তটা সে কিছুতেই মেনে নিতে পারে না। প্রতিজ্ঞাটা ভেঙে ফেলতে চায় সে। কঠিন অসুখে হাওয়া বদলের জন্যে একবার তাকে ডাঙায় নিয়ে যাওয়া হয়েছিল কিছুদিনের জন্যে। তখন থেকেই তার মাতৃ-ডাঙার প্রতি আসক্তি।
সেদিন যাত্রীদের গল্পের মধ্যমণি ছিল একটি ফুটফুটে ছোট মেয়ে। তার গলায় ছিল একটি হলদে-বোঁটার মালা। মালার গাঁথুনি থেকে বোঝা যাচ্ছিল─ সে একজন নিপুণ মালাকার। বোঁটার তীব্র রঙে ডিঙির মনে হল, বোঁটাই মুখ্য, ফুলটা বোঁটার পোশাক মাত্র। ফুলের নামটা সে কয়েকবারই শুনেছে, কিন্তু যুক্তিগ্রাহ্য হয়নি বলে মনে রাখতে পারেনি। ডিঙির কাছে সে তো কোনো সনাতন নামধারী ফুল নয়,  কেবলই হলদে-বোঁটা।
ছোট একহারা ত্রিকোণ পাল তুলে এগিয়ে চলেছে ডিঙিটা। ডুবে যাওয়ার আগে হলদে বোঁটার কাঁচা রঙ নিয়ে হোলি খেলে গেছে সূর্য। পোশাকের আব্রু ভেদ করে সে রঙ ঢুকে পড়েছে যাত্রীদের হৃদয়ে। রঙের গাঙে এমন সুস্থির যাত্রায় ভীষণভাবে মৌন হয়ে আছে যাত্রীরা।
সেই স্তব্ধতা ভেঙে মালাকার মেয়েটি বলে উঠল─ ‘আমার এমন একটি ডিঙি থাকলে কেবলই ঘুরতাম, কিন্তু জলে নয় ডাঙায়।’
এমন অদ্ভুত প্রস্তাব শুনে হাসল তার মামা─ ‘বোশেখি আড়ং থেকে তোমাকে না হয় একটা চাকাওয়ালা নৌকো কিনে দেয়া যাবে, তবে এমন শক্ত সুন্দর শালডিঙি আজকাল আর তৈরি হয় না, আম বা কাঁঠালের হবে হয়তো সেটা।
মেয়েটা দুঃখ পেলো খুব, যেন পৃথিবীতে একটি মাত্র শালডিঙি অবশিষ্ট আছে। কিন্তু এমন দুর্লভ ডিঙির সোয়ারি ভেবে বেশ গর্বিত মনে হল নিজেকে। তীরে নেমে গলা থেকে মালাটা খুলে পরিয়ে দিল শালডিঙির গলায়। শালডিঙির মনটা কেঁদে উঠল। সারারাত ফুলের ঘ্রাণে নেশার্ত হয়ে ভাবল, কীভাবে মালাকারের অদ্ভুত শখটা পূরণ করবে সে।
আজ নতুন করে হলদে বোঁটার ঘ্রাণটা তার বিগত দুঃখবোধকে জাগিয়ে তুললো। অনেক ভেবেচিন্তে শেষ রাত্রির দিকে সারাজীবন জলে বাস করার অলিখিত প্রতিজ্ঞাটা ভেঙে ফেলল সে। হলদে বোঁটার গাছ আর মালাকারকে তার খুঁজে বের করতেই হবে।
এদিক সেদিক চেয়ে সাবধানে বুক ঘষে ওপরে উঠে এল সে। ধরা পড়লে ভুতুরে নৌকো অপবাদ দিয়ে জ্যান্ত দগ্ধ করবে তাকে বৈরি মানুষ, প্রকৃতির বাদবাকি যতই তার বন্ধু হোক।
হলদে-বোঁটার গন্ধ শুঁকে শুঁকে ধানক্ষেত পাড়ি দিয়ে লোকালয়ের হালটে পৌঁছেই থমকে দাঁড়িয়ে গেল সে। এক বৃদ্ধ লাঠি ঠুকে ঠুকে মসজিদে যাবার পথে তাকে দেখে বিড়বিড় করে মন্তব্য করল─ ‘আলকাতরা লাগানোর জন্য নদীপাড়ই ভাল, হালট নয়।’
শালডিঙি নিকটস্থ কলাঝাড়ের পাশে লুকিয়ে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেললো কয়েকবার।
কলাগাছের পুষ্ট শরীরের ফাঁক ফোঁকর দিয়ে ভেসে আসছে হলদে-বোঁটার ঘ্রাণ। কিন্তু ঠাসবোনা নিবিড় কলাঝাড়ে মাথা ঢোকাতে ব্যর্থ হল সে। নিরুপায়ভাবে বাড়িটার চারদিকে ঘুরতে শুরু করল সে, যদি ভেতরে ঢোকার কোন পথ পাওয়া যায়।
অর্ধেকটা ঘুরে সে আবিষ্কার করল একটি পায়ে চলা প্রবেশ পথ। সরু পথটার দুপাশে পাটখড়ির বেড়া। আঁকাবাঁকা পথে ঢুকতে গিয়ে মড়মড় করে ভেঙে পড়ল ক্ষীণদেহী বেড়ার পাঁজর। ভয়ে পিছিয়ে এসে আবার পথ ধরল সে। একটু বাঁক নিতেই চোখে পড়ল একটি খিড়কি পুকুর, প্রায় ভূমি সমতলে। হলদে-বোঁটার একটা দমকা গন্ধ এসে লাগল তার নাকে। পুকুরের ওপারে একটি মাঝারি ঝাঁকরা গাছ, তাতে দুধেল কুয়াশার রঙে ফুটে আছে থোকা থোকা হলদে-বোঁটা। 

শালডিঙি আস্তে গা ভাসাল পুকুরে। কিন্তু মাঝ বরাবর যেতে না যেতেই দেখল, কলসি কাঁখে জল নিতে আসছে একটি বউ, সাথে একটি ছোট মেয়ে। শরীরটা কাত করে জলে কোনো ঢেউ  না তুলেই তড়িঘড়ি ডুবে গেল সে। মুখটা শুধু ভেসে রইল ওপরে। কলসি ডুবিয়ে জল নিয়ে গেল বউ।
শালডিঙি লম্বা ডুবসাঁতার দিয়ে নাক ভাসাল ওপাড়ে। ডাঙায় উঠে হাত কয়েক এগিয়ে গিয়ে থামল হলদে-বোঁটা গাছটার নিচে। ভোরের ঝিরঝির হিমেল বাতাসে তার শরীরে টুপটুপ ঝরে পড়তে লাগল গন্ধ ভুরভুর হলদে-বোঁটার ঝাঁক। চোখ বুঁজে পড়ে রইল সে। গলায় তার তখনো ঝুলছে বাসি মালাটা।
হঠাৎ গলার আওয়াজ শুনে আবছা অন্ধকারে তাকিয়ে দেখল─ সেই ছোট মেয়েটি, ফুল কুড়োতে এসেছে। মেয়েটি এগিয়ে এসে বলল─ ‘তোমার গলায় মালা দেখে মনে হচ্ছে, তুমিই সেই শালডিঙি। ডিঙি ওপর-নিচ মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানাল। সেও চিনতে পেরেছে তার প্রিয় মালাকার মেয়েটিকে।
মালাকার বলল, ‘আমাকে বেড়াতে নিয়ে যাবে?’
শালডিঙি মাথা হেলিয়ে বোঝাল─ ‘হ্যাঁ।’
মালাকার উদ্বিগ্ন হয়ে বলল─ ‘কিন্তু এখন তো সকাল হয়ে গেছে। কেউ দেখে ফেলবে তোমাকে, তুমি বরং এই পুকুরে ডুবে থাকো। রাতে পূর্ণিমার চাঁদ উঠলে, আমি তোমাকে ডেকে নেব, ঐ তো কে যেন আসছে এদিকেই।’
শালডিঙি দ্রুত নেমে গেল খিড়কি পুকুরের গভীরে, কারও সাধ্য রইল না বুঝবার। সারাদিন ধৈর্য ধরে বদ্ধ ভারী জলে ডুবে থাকল সে।
পুকুরের জল এক সময় ঘন অন্ধকার হয়ে এল। শালডিঙি অধীর হয়ে বারবার ভেসে উঠল ওপরে কিন্তু খিড়কি বাগানে পূর্ণিমা চাদের দেখা মিলল না একটিবারও। প্রতিবারই তাকে ডুবে যেতে হল, মালাকারের ডাকের অপেক্ষায়।
এশার আজান পড়েছে। আজ রাতে বাড়ীতে সবাই এ-ঘরে ও-ঘরে নায়রি কুটুমদের খেদমত নিয়ে ব্যস্ত। জানালা খুলে বাঁশঝাড়ের মাথায় চেয়ে আছে মালাকার। মাজা কাঁসার থালার মত চকচকে পূর্ণিমার চাঁদটা আজ বেশ দেরি করেই উঠল। মালাকার চুপিসারে পেছন বাড়ির পুকুরপাড়ে এসে দেখল, শালডিঙি তারই অপেক্ষায় জলের ওপর মুখ ভাসিয়ে আছে।
মালাকার ডাকল─ ‘শালডিঙি, তাড়াতাড়ি উঠে এস, চল বেরিয়ে পড়ি, এখনই সুযোগ।’

ডিঙি উঠে এল গাছের নিচে, তার গা থেকে অবিরাম ঝরে পড়ছে কাদা-গন্ধ জল। সাথে আনা চটের থলে থেকে একটা গামছা বের করল মালাকার। গলুই সংলগ্ন তিন কোনা পাটাতনটা মুছে বসে পড়ল সেখানে। 
পুকুর পার হয়ে ইরি ক্ষেতের বুক চিরে এগিয়ে চলল শালডিঙি। রিনিঝিনি নূপুর বাজিয়ে ঝিঁঝিঁরা তাদের স্বাগত জানাল। অতি উৎসুক ঝিঁঝিঁরা লাফিয়ে উঠল ডিঙিতে, যাত্রিনীকে এক ঝলক দেখে নিতে।
মালাকার থলে থেকে পুরু একটা নকশি-কাঁথা বের করে গায়ে জড়িয়ে বলল─ ‘শালডিঙি, ঐ যে দেখছ কোণে একা একা দাঁড়িয়ে একটি তালগাছ, ওখানেই একটু নিয়ে চল আমাকে, সই-এর বাড়ি।’ 

গাঁয়ের প্রান্তসীমায় তালগাছের নিচে ডোবার ধারে একটি কুঁড়েঘর। বেড়ার ফাঁক দিয়ে প্রদীপের আলো কেঁপে কেঁপে বেরিয়ে এসে মিশে যাচ্ছে জোছনার সাথে। একটি মেয়ে কবিতার সাথে তাদের গৃহটিকে মিলিয়ে দেখছে─ বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বিষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি...। বেড়ার পাশে ডালিম গাছটি যখন কানপেতে এই কবিতা শুনছে, তখন অবশ্য ঘুমিয়ে আছে তার ধানভানা মায়ের ক্লান্ত শরীর।

ঝাঁপবন্ধ জানালার পাশে গিয়ে ফিসফিসিয়ে ডাকল মালাকার─ ‘সই চুপিচুপি একটু বেরিয়ে আয় না।

সই উঠানে এসে জড়িয়ে ধরল তাকে─ ‘কতদিন পরে এলি।’ 

মালাকার তাকে হাত ধরে টেনে নিয়ে বসাল ডিঙিতে─‘চল্‌ সুরমাদের বাড়ি যাই, ওর খুব জ্বর।’
সই একটু আশ্চর্য হলো─ ‘তোর গলায় খামচির দাগটা তো এখনও ফুটে আছে, স্কুল ছুটির শেষ দিনে... মনে নেই?’

─ ‘কিন্তু ওর যে ভীষণ অসুখ, চল না যাব আর আসব।’

─ ‘ কিন্তু কি করে যাব?’

─ ‘সে ব্যবস্থা না থাকলে এখানে এলাম কি করে!’

─ ‘তা হলে দাঁড়া, দুটো ডালিম নিয়ে আসি।’

কাঁথা জড়িয়ে মাঝ-পাটাতনে বসল দুজন।

মালাকার বলল─ ‘শালডিঙি ঐ যে উঁচু শিমুল গাছটা দেখছ, ওখানে একটু নিয়ে যাবে আমাদের?’
মাথা নাড়িয়ে রওনা হলো ডিঙি। খাল পার হয়ে চষা জমির ওপরে উঠতেই সই পেছনে তাকিয়ে আঁকড়ে ধরল মালাকারকে─ ‘নৌকোর যে মাঝি নেই, আমার গা কাঁটা দিচ্ছে সই।’ 

শালডিঙি থেমে গেল।
─ ‘দিলি তো সব পণ্ড করে, সব নৌকোর মাঝি থাকে না, ওরা একাই চলতে পারে, ওদেরও প্রাণ আছে। দেখলি না তোর কথা শুনে কেমন থেমে গেল। শালডিঙি, তুমি বরং আস্তে যাও, সই তোমাকে বুঝতে পারেনি।’
শিমুল গাছের তলায় নেমে পড়লো দুজন।
সুরমার মা খুব অবাক হল, খুশিও হল─ ‘কার সাথে এলে তোমরা?’
─ ‘আমার এক আত্মীয় দিয়ে গেছে’, বললো মালাকার─ ‘আবার নিয়ে যাবে সময় মতো, সুরমা কই চাচী?’
সইদের দেখে উঠে বসল সুরমা। ডালিমের দানা মুখে দিতে দিতে খেয়াল করল, সইয়ের গলায় বিশ্রী খামচির দাগটা তখনো মরচে-লাল হয়ে আছে। চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়লো তার।

বাষ্পকণ্ঠে বলল─‘তোর সাথে ঝগড়া হবার পরদিনই আমার জ্বর হয়েছে।’

গল্পে গল্পে সুস্থ হয়ে উঠল সুরমা।

মালাকার বলল─ ‘সই, আবার দেখা হবে, রাত অনেক হল, বাড়ি ফিরতে হবে।

সইরা চলে গেল। জানালা দিয়ে দূরে চেয়ে দেখল সুরমা─ একটি নৌকো দুজন সোয়ারি নিয়ে বয়ে চলেছে। সে তার মাকে জিজ্ঞাসা করল─ ‘মা এখন কি বর্ষাকাল?’

মা বলল─ ‘জ্বরের ঘোরে মেয়ে আমার কত কি যে বলে, নে এবার একটু ঘুমো।’

তালগাছের নিচে এসে থামলো শালডিঙি।

মালাকার নেমে গিয়ে সইকে ঘর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে বলল─ ‘সই, এই নকশী কাঁথাটা তুই রাখ। এটা গায়ে দিলেই আমার কথা মনে পড়বে তোর, স্কুল খুললে আবার দেখা হবে। কিন্তু শালডিঙির কথা কাউকে বলিস না। সব কথা বলতে হয় না।’

পুকুরের অন্ধকার কোণে শালডিঙি থেকে নেমে পড়ল মালাকার। ঝাঁকড়া গাছটা নাড়া দিল সে। একরাশ হলদে-বোঁটা ঝরে পড়ল শালডিঙির বুকে। ঘর থেকে কেউ হারিকেন নিয়ে এগিয়ে আসছে পুকুর ঘাটে, হয়ত তারই খোঁজে।

শালডিঙির গলা ধরে চুমু খেল মালাকার, ‘এক্ষুনি পালিয়ে যাও, পূর্ণিমা রাতে আবার কখনো দেখা হবে আমাদের।’

কুয়াশায় গা ঢেকে নদী-ঘাটে আস্তানায় ফিরে এল শালডিঙি। এখনও অনেক রাত বাকি। জোছনার কাঁথা মুড়ি দিয়ে ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়ল সে। শেষ রাতের দিকে গা থেকে কাঁথাটা সরে যেতেই ঘুম ভেঙে গেল তার। ভেসে এল হলদে-বোঁটার ঘ্রাণ। নিজেকে মনে হলো স্বপ্নাচ্ছন্নের মতো। আমরণ জলে থাকার প্রতিজ্ঞাটা ভেঙে ফেলে ডাঙায় উঠতে মন চাইল তার। কিন্তু ততক্ষণ হলদে-বোঁটার রঙে ছেয়ে গেছে জলের আকাশ।
সজাগ হয়ে উঠল তার ইন্দ্রিয়। বুকের উপর ছড়িয়ে আছে অজস্র হলদে-বোঁটা। মালাকারের কথাটা মনে হল তার─ কখনো পূর্ণিমা রাতে আবার দেখা হবে তার সাথে।


এ জাতীয় আরো খবর