সেদিন বাবা সকাল সকাল হাটে
ব্যাগ ভর্তি বাজার, সব্জি ,শাক
মাঠে মাঠে আগুন এবং ধোঁয়া
রাত পোহালেই পয়লা বৈশাখ।
সেদিন বাবার পকেট অনেক ভারী
আকাশ যেন আরো উদার নীল
সন্ধ্যেবেলা মোড়ের চায়ের ঠেকে
বাবার হাতে বেণীমাধব শীল।
খেরো খাতার হিসেব নিকেশ বুঝে
মুচকি হাসে গ্ৰামের দোকানদার
মিষ্টি-প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে হাতে
এগিয়ে ধরে বাংলা ক্যালেন্ডার।
আজও বাবা একইরকম খোঁজেন
পঞ্জিকাতে মাহেন্দ্র কোন ক্ষণ
কোন পুজোতে শুদ্ধ হবে ভিটে
তুষ্ট হবেন সত্যনারায়ণ
বয়সটা তাঁর থমকে আছে সেই
থমকে আছে ভুরিভোজের ঝোঁক
এ বৈশাখের কোনায় কোনায় যেন
ঘুমিয়ে আছে আবিশ্ব এক শোক।
অনেক বছর আগের সে এক রাতে
বাবার তখন গা ভর্তি জ্বর
ঘুমিয়েছিল শহর এবং গ্ৰাম
সেই সুযোগে বাবা দেশান্তর।
আসেননি আর , বন্ধ চিঠি লেখা
সেই সে দেশে মোবাইল টাওয়ারহীন
খোলা চোখে যায় না কিছুই দেখা
বন্ধ চোখে নৌকা উদাসীন।