নিজেদের ঘরের মাঠে শুরুটা স্বপ্নময় হতে পারত, কিন্তু বাস্তবতা ছিল নির্মম। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে ৩ উইকেটে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়েছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর নেতৃত্বে লড়াই করেও ব্যর্থতা ঢাকতে পারেনি ব্যাটিংয়ের অসঙ্গতি।
প্রথম ইনিংসেই ছন্দপতন
টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পায়নি টাইগাররা। ব্যাট হাতে ব্যর্থতার পরিচয় দেন টপ অর্ডারের প্রায় সব ব্যাটসম্যান। ইনিংস থেমে যায় মাত্র ১৯১ রানে। একমাত্র ব্যতিক্রম ছিলেন অভিজ্ঞ মুমিনুল হক সৌরভ, যিনি ৫৬ রানের লড়াকু ইনিংস খেলে কিছুটা আশার আলো জ্বালান। অধিনায়ক শান্তর ব্যাট থেকে আসে ৪০ রান।
জবাবে জিম্বাবুয়ের নিয়ন্ত্রিত ব্যাটিং
জবাবে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নিজেদের মতো করেই এগিয়ে যায়। দুই অর্ধশতক ইনিংস আসে উইলিয়ামস (৫৯) ও ওপেনার বেনেটের (৫৭) ব্যাট থেকে। বাংলাদেশের বোলিং লাইনআপে একমাত্র উজ্জ্বল ছিলেন মেহেদি হাসান মিরাজ। অফস্পিনে জাদু দেখিয়ে ৫ উইকেট তুলে নেন তিনি, তবুও ২৭৩ রানে থামে সফরকারীদের ইনিংস।
দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই, কিন্তু যথেষ্ট নয়
প্রথম ইনিংসে ৮০ রানে পিছিয়ে থেকে চাপ নিয়েই দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে বাংলাদেশ। এই ইনিংসে তুলনামূলক ভালো খেললেও বড় সংগ্রহ গড়তে ব্যর্থ হয় দলটি। শান্ত করেন ৬০, জাকের আলি করেন ৫৮ এবং মুমিনুল হক যোগ করেন ৪৭ রান। ইনিংস শেষ হয় ২৫৫ রানে। ফলে জিম্বাবুয়ের সামনে লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭৪ রান।
মিরাজের দাপটের মাঝেও পরাজয়
মেহেদি হাসান মিরাজ দ্বিতীয় ইনিংসেও ছিলেন দুর্দান্ত। আরও ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচে নিজের শিকার দাঁড় করান ১০-এ। তবে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতা এবং ফিল্ডিংয়ের অসংলগ্নতায় সেই লড়াইও শেষ পর্যন্ত বৃথা যায়। শেষ বিকেলে তিন উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছায় জিম্বাবুয়ে।
বাংলাদেশের হতাশা, জিম্বাবুয়ের ইতিহাস
সিরিজের প্রথম ম্যাচেই এমন হার নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা বাংলাদেশের জন্য। মিরাজের অলরাউন্ড পারফরম্যান্স ব্যর্থতার ছায়ায় ঢাকা পড়ে গেছে। অপরদিকে জিম্বাবুয়ের জন্য এটি ঐতিহাসিক এক জয়, যা তাদের আত্মবিশ্বাস অনেকটা বাড়িয়ে দিল পরবর্তী ম্যাচের জন্য।