সকালটা শুরু হয়েছিল এক প্রকার দুঃস্বপ্ন নিয়ে। জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে মাঠে নামার পর ধারণা করা যাচ্ছিল, প্রথম ইনিংসেই বড় লিড নিতে যাচ্ছে তারা। কিন্তু স্ক্রিপ্ট বদলে দিলেন তরুণ গতিদানব নাহিদ রানা। এরপর সেই গল্পে রঙ তুললেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এক প্রান্তে পেস, অন্য প্রান্তে স্পিন—বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ এদিন যেন দুই বিপরীত স্রোতের এক মোহময় সমন্বয়।
নাহিদের ঝাঁঝালো শুরুতে কাঁপতে শুরু করে জিম্বাবুয়ে। শর্ট বল, লাফিয়ে উঠা ডেলিভারি আর নিখুঁত লাইন—সব মিলিয়ে এক দুর্দান্ত প্যাকেজ। বেন কারেন, ব্রায়ান বেনেট ও অধিনায়ক ক্রেইগ আরভিনকে ফিরিয়ে দিয়ে তুলে নেন ৩ উইকেট। এর মাঝেই হাসান মাহমুদের স্টাম্প উপড়ে ফেলা ডেলিভারি কিংবা খালেদ আহমেদের নিঁখুত লাইন-লেংথও সমান প্রশংসার দাবিদার।
কিন্তু মঞ্চটা শেষমেশ দখলে নেন মিরাজ। দিনের শেষভাগে তাঁর স্পিন ঘূর্ণিতে ধস নামে জিম্বাবুয়ে ইনিংসে। ২০২২ সালের পর ঘরের মাঠে প্রথমবারের মতো ৫ উইকেট নিয়ে ফেরেন ড্রেসিংরুমে—হাসিমাখা মুখে। তবে মিরাজের সাফল্যের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছিলেন পেসাররা, বিশেষ করে নাহিদ।
জিম্বাবুয়ে শেষ পর্যন্ত থামে ২৭৩ রানে, পায় মাত্র ৮২ রানের লিড। কিন্তু ব্যাটিংয়ে আবার সেই পুরনো বাংলাদেশের ছায়া। সাদমান ইসলাম চার রানে ফিরে যান মুজারাবানির বলে, উইকেটের পেছনে ক্যাচ। মাহমুদুল হাসান জয় দুইবার জীবন পেয়েও ইনিংস বড় করতে পারেননি, যদিও এখনও অপরাজিত। তাঁর সঙ্গে উইকেটে থাকা মুমিনুল হকও থিতু হতে চেষ্টা করছেন।
দিন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ ১ উইকেটে ৫৭। জিম্বাবুয়ের থেকে পিছিয়ে ২৫ রানে। দ্বিতীয় ইনিংসে লড়াই জমিয়ে তোলাই এখন মূল লক্ষ্য।
দিনশেষে সংবাদ সম্মেলনে মিরাজ বললেন, “৩৫০-৪০০ রান হলে ম্যাচ জেতার মতো লক্ষ্য দেওয়া সম্ভব হবে। আমরা চাই ওদের সামনে অন্তত ৩০০ রানের টার্গেট রাখতে।”
একদিকে মিরাজের স্পিন জাদু, অন্যদিকে নাহিদের আগুনে স্পেল—বাংলাদেশের বোলিং আক্রমণ দিনটিকে স্মরণীয় করেছে। তবে তাইজুলের নিষ্প্রভ উপস্থিতি এবার যেন প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে—দ্বিতীয় ইনিংসে তিনিও কি পারবেন নিজের ছায়া ছড়াতে?
সব প্রশ্নের উত্তর সময় দেবে। আপাতত বাংলাদেশ শিবিরে হালকা একটা আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে—যা রচনায় ছিল নাহিদের গতির ঝড় আর মিরাজের ঘূর্ণির ছোঁয়া।