বুধবার, জুন ২৪, ২০২৬

মুভি রিভিউ: দাগী

  • ফারজানা করিম অর্পিতা
  • ২০২৫-০৪-১৯ ১৩:৪৫:৪৭

দেখে আসলাম দাগী মুভি। বেশ কয়েকদিন ধরে প্রচন্ড স্ট্রেস এবং ডিপ্রেশনের কারণে মেন্টালি ভীষণ ভাবে খুব আপসেট ছিলাম। শুধুমাত্র স্ট্রেস রিলিফের জন্যই মুভি দেখতে যাওয়া। একদম লাস্ট মোমেন্টে গিয়েছিলাম তাই তেমন ভালো কোন সিট পাই নাই এবং অন্য সব মুভির টিকিট হাউজফুল থাকার কারণে দাগীই ছিল কপালে। তবে মনে হয় কপালটা ভালই ছিল কারণ দাদী এক কথায় অসাধারণ। 
আমি সব সময় মুভিকে মুভি হিসেবেই দেখি এর সাথে বাস্তবতার মিল খুজতে যাই না। দু এক জায়গায় একটু ঝুলে যাওয়া ছাড়া স্টোরি, স্ক্রিনপ্লে, এক্টিং বা অন্যান্য দিক দিয়ে দাগী আমার কাছে ভালো লেগেছে। একটা স্যাটিসফেকশন নিয়ে মুভিটা শেষ করলাম। 
জেল খেটে মুক্তি পাওয়া একজন ব্যক্তির প্রতি সমাজের দৃষ্টিকোণ কেমন হয়, ১৪ বছর পর সমাজে ফিরে সেই ব্যক্তিটিই বা তার জীবন বা তার চারপাশের কতোকিছু বদলে যেতে দেখে, এতোবছর পরে সে তার জীবন আবার কিভাবে গুছিয়ে নেবে, তার জীবনের নতুন লক্ষ্য কি হবে... এগুলোই দাগীর মূল প্লট।  কিছু কমার্শিয়াল সিনেম্যাটিক টুইস্ট-টার্নস, হালকা-পাতলা একশন সহযোগে দুর্দান্ত গল্প বলেছেন নির্মাতা শিহাব শাহীন। আর সেখানে দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন সুপারস্টার আফরান নিশো!  আর যোগ্য সঙ্গ দিয়েছেন সুনেহরা কামাল, শহীদুজ্জামান সেলিম, রাশেদ মামুন অপু, তমা মির্জা এবং অন্যান্যরা। ভিলেন চরিত্রে রাশেদ মামুন অপু আর শহীদুজ্জামান সেলিম যে যার জায়গায় দুর্দান্ত দিয়েছেন। সুনেহরা আর ১৩/১৪ বছরের ছোট্ট মেয়েটার অভিনয় দুর্দান্ত হয়েছে। তবে তমা মির্জা আর একটু ভালো করতে পারতেন। নিশোর বাবার চরিত্রটাও পারফেক্ট লেগেছে।
পরিচালক দাগীতে তার মেধার দারুন প্রয়োগ ঘটিয়েছেন! কিছু কিছু সিকুয়েন্স আছে যেগুলোতে আসলে আবেগ ধরে রাখা যায় না। বিশেষ করে এন্ডিং সিকুয়েন্সটার কথা আলাদা করে বলতে হয়, বুকটা এমন ভার হয়ে আসতেছিলো! আশেপাশের অনেককেই কাঁদতে দেখেছি। আর মুভির গানগুলোও খুব ভালো ছিলো।
ওভার অল, দারুণ। পয়সা আর সময় উসুল। আর সর্বোপরি স্ট্রেচ রিলিফ করে এসেছি।


এ জাতীয় আরো খবর