ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড মোড় নতুন করে ডিজাইন এবং অবকাঠামো উন্নত করেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রেকর্ড অনুসারে, ২০২৩ সালে ডিএনসিসি এলাকায় রোড ক্র্যাশে ১২৩টি প্রাণহানি হয়েছে। যেখানে হতাহতের তালিকায় মোহাম্মদপুর থানা চতুর্থ স্থানে রয়েছে এবং এ থানার অধীনে প্রাণহানির ৫৫.৫ শতাংশই মোহাম্মদপুর বাসস্টপ এলাকায় ঘটেছে।
সেজন্য রোড ক্র্যাশের ঝুঁকি কমাতে এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মোড়টি পুনঃনির্মাণ ১৮ হয়েছে, যেখানে পথচারী ক্রসিং, স্পষ্ট সাইনবোর্ড এবং অন্যান্য প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সকল সড়ক ব্যবহারকারী, বিশেষ করে পথচারীরা আরও নিরাপদে চলাচল করতে পারবে।
ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজ ইনিশিয়েটিভ ফর গ্লোবাল রোড সেফটি (বিআইজিআরএস) প্রোগ্রামের অধীনে ঢাকায় বিজ্ঞানভিত্তিক ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সড়ক নিরাপত্তা কৌশল অনুসরণ করে এটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিআইজিআরএস-এর অংশীদার সংস্থা ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউট (ডব্লিউআরআই) এর সহায়তায় ও ডিএমপির সহযোগিতায় ডিএনসিসি মোহাম্মদপুর মোড়টি পুনঃনির্মাণ করেছে।
আজ সকালে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিজের লিভান্তা মিলারের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা সংস্থাগুলির একটি প্রতিনিধিদল নতুনভাবে নির্মিত মোহাম্মদপুর মোড়টি পরিদর্শন করেছে। জনস হপকিন্স ইন্টারন্যাশনাল ইনজুরি রিসার্চ ইউনিট (জেএইচ-আইআইআরইউ) এর শিরিন ওয়াধানিয়া এবং ডা. জাবির হাসান, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের গ্রান্ট এনিস, মাইরিক পালা, আমিনুল ইসলাম সুজন ও সুগান্তি সারাভানান, গ্লোবাল রোড সেফটি পার্টনারশিপ (জিআরএসপি) ব্যবস্থাপক ব্রেট হারমান এবং বিআইজিআরএস এর ইনিশিয়েটিভ কোঅর্ডিটের মো. আবদুল ওয়াদুদ প্রতিনিধিদলে ছিলেন। এসময় সেখানে ডিএমপির ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-তেজগাঁও) রফিকুল ইসলাম এবং অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিশ কমিশনার তানিয়া সুলতানা উপস্থিত ছিলেন।
ডিএনসিসি এবং ডব্লিউআরআইয়ের ব্যবস্থাপনায় প্রতিনিধিদলটি মোড়টি ঘুরে দেখেন এবং এর বাস্তব প্রভাব পর্যবেক্ষণ করেন। এসময় তারা এই ধরনের আরো জনকল্যাণমুখী উদ্যোগ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা করেন।
ডিএনসিসির সুপারিনটেনডেন্ট ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মাহবুব আলম মোহাম্মদপুর মোড়টির উন্নতির জন্য গৃহীত সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাগুলি ব্যাখ্যা করেন। তিনি ঢাকার রাস্তাগুলিকে নিরাপদ এবং সকলের জন্য আরও সহজলভ্য করার জন্য ডিএনসিসির প্রতিশ্রুতিও তুলে ধরেন।
ডব্লিউআরআই পরামর্শদাতা ফারজানা ইসলাম তমা বলেন যে পুনঃনির্মিত চৌরাস্তাটি এখন সড়ক ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ। তবে ডিএনসিসি যদি চৌরাস্তায় ডিজিটাল সিগন্যাল স্থাপন করতে পারে তবে এটি আরও কার্যকর হবে।