চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শহর থেকে গত বুধবার (১৬ এপ্রিল) রাতে রুহুল আমীন কবির (৪১) নামে এক ব্যাক্তির প্রায় অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পৌর ১৪ নং ওয়ার্ডের পোলাডাঙ্গা দক্ষিণপাড়া মহল্লার মৃত বদিউজ্জামানের ছেলে। তিনি পেশায় একজন বড় সুদের কারবারি ছিলেন বলে স্বজন,স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। সূত্রগুলো আরও ধারণা করছে, সুদের টাকা নিয়ে বা অন্য কোন কারণে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে শ^াসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। মরদেহ উদ্ধারের পর বৃহস্পতিবার (১৭ এপ্রিল) কবিরের বোন জরিনা বেগম চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর থানায় অজ্ঞাত পরিচয় ব্যাক্তিদের বিরুদ্ধে খুনের মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে গত বুধবার দুপুরে স্বজন ও এলাকাবাসী তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশে জানালে পুলিশ বিকালে ঘটনাস্থল তাঁর বাড়িতে পৌঁছে। তবে এর আগেই পরিবার তাঁর নিখোঁজের বিষয়টি পুলিশে জানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় বাহির হতে লাগানো বাড়ির কলাপসেবল গেটের তালা ভেঙ্গে বাড়িতে প্রবেশে করে ডাইনিং-এ একটি খাটের উপর কবিরের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। কবির ওই গেট দিয়েই বাড়িতে শেষ প্রবেশ করে বলে পুলিশ প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হয়েছে। মরদেহে বাহ্যিক আঘাতের তেমন কোন চিহ্ন না থাকলেও নাক কান দিয়ে রক্ত বের হচ্ছিল। এছাড়া তাঁর দাত দিয়ে জিহবা কাটা পাওয়া গেছে যা সন্দেহজনক। এরপর সিআইডির ক্রাইমসিন ও ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুণা সংগ্রহ করে। রাত ৮টার দিকে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়।
সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জের পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন,এখনই মৃত্যুর নিশ্চিত কারণ বলা সম্ভব নয়। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলেই সঠিক কারণ জানা যাবে। তবে বিষয়টি সন্দেহজনক। গত সোমবার (১৪ এপ্রিল) রাত ৯টা পর্র্যন্ত তাঁকে জীবিত পাওয়া গেছে। পরদিন গত মঙ্গলবার(১৫ এপ্রিল) দুপুর পর্যন্ত তাঁর মোবাইল ফোন খোলা থাকলেও তিনি ফোন রিসিভ করেন নি। পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
মৃতের ভাতিজা জুয়েল পারভেজ(২৬) বলেন, তাঁর চাচা বিপত্মিক ছিলেন। তাঁর কোন সন্তানও নেই। তাঁর বাবা-চাচারা তিন ভাই একই বাড়িতে বাস করতেন। তবে তাঁর চাচা কবির নিয়মিত বাড়ি আসতেন না। তাঁর উচ্চ রক্তচাপ ছিল। বাড়িতে তাঁর চাচার অংশে প্রবেশের জন্য প্রধান গেট ছাড়াও অন্য দরজাও রয়েছে বলে জানান জুয়েল।