বৃহস্পতিবার, জুলাই ৩০, ২০২৬

আ গ ম নী

  • না লেখা ইতিহাস
  • ২০২৫-০৪-১০ ০০:১৯:১৫

মৃত্যুর পরেও এক মৃত্যু কথা বলে,
ডাক দেয় আরও গভীরে। 

সেদিন বিধুভূষণ  শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করল।
বুকের বামদিকটা হঠাৎ বরফ হয়ে গেল ।
রক্ত যে এভাবে লাল বরফ হতে পারে
বিধুভূষণকে না দেখলে বিশ্বাসই করতাম না। 

হলো কি ,,,,,....
একটা পাগলী আচমকা চকচকে তীক্ষ্ণ ধারালো
ছুরি হাতে এলো এগিয়ে ,
চিত্ হয়ে শুয়ে থাকা বিধুর উপর বসলো উবু হয়ে
তারপর পলকের মধ্যে হাতের ছুরিটা দিয়ে
খুব সাবধানে উন্মুক্ত করলো বুকের বাম দিকটার
চামড়া..মাংস...পাঁজরের অংশ বিশেষ। 

ভাষা হীন আমি।
অপলকে তাকিয়ে দেখলাম......
পাগলী তার নোংরা নখের হাত দিয়ে 
আস্তে আস্তে তুলে আনলো এক খন্ড লাল বরফ
ভীষণ অবিশ্বাস করতে ইচ্ছে করছিলো
ওটা বরফ নয় বলে, কিন্তু 
আন্টার্কটিকার জমাট পুরু বরফের চেয়েও
বোধহয় শক্ত ছিলো সেই লাল ।
কিছুক্ষণ একদৃষ্টিতে ওটাকেই দেখলো পাগলী।
তার চোখে মুখে একটা অপরিসীম তৃপ্তি খেলে গেল যেন।
মনে হলো...ও আমার মনের ভুল, কিন্তু .......নাঃ ! 

আবার ছুরিটা উঠলো পাগলীর হাতে।
এবার নিজের বুকের বামদিকটা মুহূর্তে 
দিলো ফালা ফালা করে।
দেখতে লাগছিলো...দেখতে লাগছিলো ঠিক পোড়ো বাড়ির ফাঁকা জানালার মতো।
তারপর সেই ফাঁকাতে  বসিয়ে দিলো 
বিধুর বাম দিকের লাল বরফটা। 

সঙ্গে সঙ্গে অভূতপূর্ব দৃশ্য  !
লাল বরফটা গলতে শুরু করলো দ্রুত.....
ঝরঝর করে ঝরে পড়ছে তাজা টকটকে লাল রক্ত 
দেখতে দেখতে একটা নদী....রক্তের নদী !
নদীর থেকে একটা শব্দ ভেসে আসছে
ঠিক দমকা হাওয়ার মতো...ধক্ ধক্ ...ধক্ ধক্ ...ধক্ ধক্ 

চোখ কচলে  তাকিয়ে দেখলাম 
দুটো হৃদয় ভেসে চলেছে নিজেদের মধ্যে কথা বলতে বলতে...... .হাসতে হাসতে.... 
আর পাগলীটা  বিধুভূষণের বুকের উপর 
উপুড় হয়ে পড়ে রয়েছে।
তার ঠোঁট দুটো একেবারে  বিধুর কানের কাছে.... 
ঠিক যেন কোনো গোপন কথার বাসর। 

নদীটা কোথায় ...কোন পথে হারিয়ে গেল বলতে পারবো না।
একটু অন্যমনস্ক হতেই সে 
তার পুরো শরীর নিয়ে কোথাও হারিয়ে গেছে।
সামনে শুধু দুটো দেহ।
যেন ইতিহাসের পাতায় আঁকা জীর্ণ সৌধ,
যাকে দেখা যায় বটে,কিন্তু গভীরতা মাপা যায় না কখনো !!


এ জাতীয় আরো খবর