বুধবার, আগস্ট ২৬, ২০২৬

দৌলতপুরের চরাঞ্চলে রাস্তার বেহাল দশা: কৃষিপণ্যের ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষ

  • মিজানুর রহমান,
  • ২০২৫-০৪-০৯ ১৩:০৫:৪৮
চরের কাঁচা রাস্তা।

দৌলতপুর(কুষ্টিয়া)প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার চরাঞ্চলে রাস্তাঘাটের ভয়াবহ অবস্থা এখন স্থানীয় মানুষের জন্য বড় দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারবিহীন কাঁচা রাস্তা, ভাঙাচোরা সড়ক ও ব্রিজের অভাবে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না, পাশাপাশি শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবাও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্থ হচ্ছে।
চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে রয়েছে ফসলি জমি। ধান, পাট, শাকসবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য উৎপাদনে এই অঞ্চল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও, সঠিক রাস্তাঘাট না থাকায় কৃষকরা বাজারে তাদের পণ্য পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছেন।
স্থানীয় কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের সবজি অনেক ভালো হয়, কিন্তু সময়মতো বাজারে নিতে পারি না। রাস্তায় কাদা, গর্ত, বৃষ্টিতে পানি জমে থাকে। তাই ব্যাপারীরা কম দামে কিনে নিয়ে যায়, আমরা কিছু করতে পারি না।
শুধু কৃষিই নয়, এই অব্যবস্থাপনার শিকার হচ্ছে শিক্ষাক্ষেত্রও। অনেক শিক্ষার্থী প্রতিদিন কাদামাটির রাস্তা পেরিয়ে স্কুলে যেতে বাধ্য হয়। কেউ কেউ মাঝপথে ভিজে যায়, কেউ আবার স্কুলে যেতেই পারে না।
স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “বর্ষাকালে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি অর্ধেকে নেমে আসে। মেয়েদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও খারাপ। পরিবার থেকে অনেকেই পাঠানো বন্ধ করে দেয়।”
অন্যদিকে, অসুস্থ রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া যেন আরেক যুদ্ধ। চরাঞ্চল থেকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যেতে গর্তে ভরা রাস্তায় চলতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। জরুরি সেবার জন্য নেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থা।
এই অবস্থার পরিবর্তন চেয়ে স্থানীয়দের দাবি,চরাঞ্চলের ভাগজোত ও সুকারঘাট  রাস্তা ও ব্রিজগুলো দ্রæত পাকা করতে হবে, যাতে কৃষক, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সঠিকভাবে তাদের মৌলিক সেবা পেতে পারে।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল মান্নান জানান, “আমরা একাধিকবার প্রকল্প প্রস্তাব জমা দিয়েছি। কিছু কাজ শুরু হলেও বাজেট সংকটে বন্ধ হয়ে যায়। টেকসই পরিকল্পনা ছাড়া এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।”
. উপজেলা নির্বাহী অফিসার আব্দুল হাই সিদ্দিকী জানান আশার বাণী, ভাগজোত বাজার থেকে শুকার ঘাট পর্যন্ত রাস্তা সহ ভাগজোত মোড়ের ব্রিজ টির সকল কাজ সম্পন্ন হয়েছে শুধু একনেকে পাস হয়ে গেলে রাস্তার কাজটি শুরু হয়ে যাবে এবং অচিরে চিলমারী ইউনিয়নের মানুষ সুসংবাদ  পাবেন। তাছাড়া রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারি ইউনিয়নের  তাদের কষ্টে অর্জিত উর্বর মাটির ফসলের ন্যায্য মূল্য থেকে শুরু করে  দৌলতপুর সদরের সাথে যোগাযোগের সক্ষমতা অর্জন করে এবং দুটি ইউনিয়ন মডেল ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত পাবেন
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, সরকারের উচিত চরাঞ্চলকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে একটি আলাদা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যাতে এসব প্রান্তিক মানুষ উন্নয়নের মূলধারায় যুক্ত হতে পারে।

 


এ জাতীয় আরো খবর