ফাগুনের বেলা শেষ
চৈত্রের মাতাল হাওয়া ঝরে পলাশ বনে,
রৌদ্র আক্রান্ত ক্লান্ত কোকিল অপেক্ষায়
কাকের বাসায় কখন ডানা মেলে উড়বে বাচ্চাগুলো।
বোকা কাক বুঝবে সেদিন কোকিলের স্বার্থপরতা।
অতিথি পাখিরা ফিরে গেছে নিজের কুলোয়
চৈতালি ফসলে ভরা সোনালি মাঠ মাঝে মাঝে মেঘের গর্জন
কখন বুঝি শুরু হয় কাল বোশেখের বিজয় মাতন।
হাজরাবুড়ি রাতভর স্মৃতির জাবর কাটে বারান্দায় কখনো বা শুয়ে শুয়ে কখনো বসে।
দিনরাত কথার ফোয়ারা চলে কে শোনে তার গল্প।
কড়ি, আনা, পয়সা সবই তার নখদর্পণে।
চোখে ভালো না দেখলেও পায়ের শব্দে ছেলের নাম ধরে ডাকে --
যা বাপ ঘুমাতে কিচ্ছু হইবো না।
সারাদিনের ক্লান্তি।
অন্ধকারে ছেলে চেয়ে থাকে ভাবে -- একেই বলে মা
শেষ বয়সে তাদের সঙ্গ দিতে চায় না অথচ তারা কেমন
আগলে রাখে সন্তানকে।
পায়ে পায়ে এসে মায়ের পাশে বসে
মাথায় হাত বুলিয়ে বলে --- মা অনেক রাত ঘুমিয়ে পড়ো।
মনে হয় মা আছে তাই বাড়িটা যেন আলোয় ভরে আছে
যেদিন থাকবে না সেদিন কেউ এভাবে বলবে না,
অমানিশার ঘুটঘুটে অন্ধকারে আসি ডুবে যাবো মা
আমার স্বচ্ছ আকাশ সেদিন মেঘে ঢেকে যাবে।