সোমবার, মে ২৫, ২০২৬

শুভ জন্মদিন নন্দিত অভিনেত্রি নারী পালাকার বিউটি

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-১৭ ২১:০০:১৭

যাত্রা বাংলাদেশের লোকনাট্য সম্পদ। অজস্র শিল্পী কুশলীর সঙ্গে জড়িত। যাত্রা দলের সংখ্যাও কম নয়। সরকারি হিসাব মতে নিবন্ধন নিয়েছে ১০৬টি দল। একটি করে দলে পালা থাকে ১৪-১৫টি করে। তাতে বিপুল পরিমাণে পালার প্রয়োজন হয়। কিন্তু দেশীয় পালাকারের পালায় এত সংখ্যক দলের চাহিদা মেটে না। ফলে পেশাদার দল মালিকেরা বরাবরই দল সাজান কলকাতার পালায়। আর এই সব পালার গল্প থাকে কলকাতার। ভাব-ভাষা-ছন্দ ধরতে দর্শকের কষ্ট হয়। তারপরও যুগ যুগ ধরে চলে আসছে এই ধারা। আর পালা সঙ্কট উপলদ্ধি করে যারা পালা রচনা করে যাচ্ছেন তাঁদের মধ্যে ব্যতিক্রম হচ্ছেন প্রিন্সেস বিউটি।
বিউটি একাধারে একজন চলচ্চিত্র অভিনেত্রি এবং নারী পালাকার হিসেবে স্বনামেখ্যাত। ভালো অভিনেত্রি হিসেবে যথেষ্ট প্রশংসিত তিনি। অভিনয় নৈপুণ্যও প্রশংসনীয়। দর্শকের কাছে তিনি প্রিন্সেস হিসেবেই খ্যাত। তবে নৃত্যের প্রিন্সেস নয়। আর সেই প্রিন্সেস অভিধাটি তিনি জুড়ে দিয়েছেন পালাকার অভিধায়। প্রিন্সেস বিউটি বাংলাদেশের একজন নারী পালাকার। চলমান নারী পালাকারের মধ্যে তিনিই প্রথম; যদিও অভিনেত্রি জ্যোৎস্না বিশ্বাস একটি পালা লিখে নিজের দলে কয়েকটি মঞ্চায়ন করেছিলেন কিন্তু সেই পালার সন্ধান আর যেমন পাওয়া যায় না, তেমনি আর কোনো পালা লিখেছেন বলে জানাও যায় না। ফলে প্রিন্সেস বিউটিকে দেশের একমাত্র নারী পালাকার হিসেবে গণ্য করাই যায়।
পালা লেখার আগে বিউটি অভিনয় করেছেন দেশের পেশাদার যাত্রার দলে। এখনও করছেন এ্যামেচার শিল্পী হিসেবে। পেশাদার যাত্রার খ্যাতিমান নট-নির্দেশক জাকির হাসানের হাত ধরে প্রথম সুকল্যাণ বসুর নাট্য মঞ্জুরি অপেরাতে যান বিউটি। পরে অতুল সরকারের চৈতালী অপেরাতে। নৃত্য-গীত অভিনয়ে পূর্ব দক্ষতার দরুন দলে তিনি শুরু থেকেই সহনায়িকা। বর্তমানে হালের হিট নায়িকার তালিকায়।
এরপর ‘বৈকালী অপেরা’ নামে আরেকটি দলে তিনি মাঝ মৌসুম পর্যন্ত ছিলেন। শৃঙ্খলা ভঙ্গ আর অনিয়মিত বেতন ব্যবস্থার কারণে আর পেশাদার দলে যান না বিউটি। বর্তমানে পালা লেখাতেই ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন।
রক্ষণশীলতা আর রুচিবোধ তাঁর পেশাদার দলে থাকার মানসিকতা গঠনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর পালা সঙ্কটও তাঁকে ব্যথিত করে। ফলে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা আর কষ্ট স্বীকার করেও অব্যাহতভাবে পালা করে যাচ্ছেন তিনি।
দেশের গন্ডি পেরিয়ে কলকাতার নাছিরনগর আর গুজরাটে তাঁর পালাভিনয়ের খবর পাওয়া গেছে। পালাকার প্রিন্সেস বিউটির পুরো নাম প্রিয়াংকা তাজমীম বিউটি। থাকেন নেত্রকোনার সাতপাই পালপাড়ায়। বাবার চাকরি সূত্রে জন্ম চট্টগ্রামের ডবলমুড়িং। পিতৃপুরুষের বাড়ি ময়মনসিংহের গফরগাঁও। প্রচন্ড তেজস্বী ও আত্ম সম্মানবোধের অধিকারী অভিনেত্রি পালাকার তিনি।
পালা রচনায় তিনি স্বতন্ত্র ধারার স্বাক্ষর রাখতে পেরেছেন- এমনটি যাত্রার অনেকেই স্বীকার করেন। বর্তমানে তাঁর তিনটি প্রকাশিত পালা ‘মা কেন পতিতা’, ‘রাজ নর্তকী‘, ‘ছেলের রায়ে মায়ের ফাঁসি’। তাতে দেখা গেছে তিনখানা পালাই উৎকৃষ্ট মানের। গল্প যেমন জটিল হয়েও সরল, ভাষাও তেমনি গতিশীল প্রাণবন্ত। অভিনয়ে যেমন শিল্পসত্ত্বার দ্রোহ চেতনা থেকে তিনি প্রচলিত গন্ডি ভাঙতে চেষ্টা করেছেন- পালা রচনার ক্ষেত্রেও তেমনি সমকালীন চিন্তা চেতনার প্রয়োগ ঘটিয়ে সফলতা পেয়েছেন।
তাঁর সকল শিল্পকর্মে আধুনিক মনস্কতা, বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণের সমন্বয় ঘটেছে। দেশীয় যাত্রাভিনয় এবং পালার মানোন্নয়নে তাঁর অবদান গুরুত্বের সঙ্গে স্বীকার করতে হবে।
আজ ১৭ মার্চ অভিনেত্রি ডিউটির জন্মদিন। ১৯৭৬ এর এই দিনেই মাটির পৃথিবীতে ভূমিষ্ট হন তিনি।
ময়মনসিংহের ঐতিহ্যবাহী আনন্দমোহন কলেজ থেকে বাংলায় স্নাতকোত্তর সম্পন্ন বিউটির সামনের অমসৃণ দিনগুলো হোক আরও সুগম আরও মসৃণ।

আজকের এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা।
 


এ জাতীয় আরো খবর