জামিলুর রহমান শাখা বাংলা চলচ্চিত্র ও নাট্যাঙ্গনের বরেণ্য একজন অভিনেতা।
সাংস্কৃতিক ভুবনে তিনি সবার কাছে শাখা ভাই নামেই সমধিক পরিচিত।
১৯৬২ সালে খসরু নোমানের 'এই তো জীবন' মঞ্চনাটকের মাধ্যমে তিনি অভিনয় জগতে পদার্পণ করেন। মঞ্চ ছাড়াও তিনি টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন শ্রুতি নাটকে অভিনয় করেছেন শাখা।
তাঁর অভিনীত টেলিভিশন নাটকের সংখ্যা প্রায় দু'শো এবং চলচ্চিত্রের সংখ্যা ছ'শোরও বেশি।
জামিলুর রহমান ২০০০ সালে 'চিটাগং দারনিয়েরে এস্কালে' (শেষ গন্তব্য চট্টগ্রাম) শিরোনামের একটি ফ্রান্সের চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ভূয়সী প্রশংসা অর্জন করেছেন।
চলচ্চিত্রে তিনি মূলতঃ পার্শ্বচরিত্র গুলোতে অভিনয়ের জন্য জনপ্রিয়।
জন্ম ১৭ মার্চ ১৯৪২ সালে ঢাকার অদূরে দোহারের মুন্সিকান্দায়।
১৯৭০ সালে পরিচালক সফদার আলী ভুঁইয়ার 'রাজমুকুট' চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে রূপালি ভুবনে অভিষেক ঘটে তাঁর।
বেশিরভাগ চলচ্চিত্রে প্বার্শচরিত্রে রূপদান করলেও 'রাজধানী' চলচ্চিত্রে তিনি খলনায়কের ভূমিকায় অভিনয় করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যা ও এক পুত্র সন্তানের জনক।
অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্র সমুহ - রাজমুকুট, ক্রিমিনাল, কেয়ামত থেকে কেয়ামত, অন্তরে অন্তরে, স্নেহ, আঞ্জুমান, আশা ভালবাসা, জীবন সংসার, রুটি, সত্যের মৃত্যু নাই, দেশের মাটি, চিটাগং দারনিয়েরে এস্কালে, হাছন রাজা, এক খন্ড জমি, খায়রুন সুন্দরী, মাতৃত্ব, মেঘের পরে মেঘ, শাস্তি, কাল সকালে, হাজার বছর ধরে, চার সতীনের ঘর, ডাক্তার বাড়ি, চন্দ্রগ্রহণ, একই বৃত্তে,
নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, ফুল এন্ড ফাইনাল, ৭১ এর মা জননী,
জীবনঢুলী, ব্ল্যাকমেইল,
ফরায়েজী আন্দোলন প্রভৃতি।
তবে আগের মতো আর অভিনয়ে নিয়মিত নন তিনি। পরিচালক প্রযোজকদের ডাকও পান না। তাছাড়া বয়স ও অসুস্থতার জন্য এখন গ্রামের বাড়িতেই বসবাস করছেন।
বছর চারেক আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দশ লক্ষ টাকার সঞ্চয় পত্র অনুদান দেয়ায় কিছুটা উপকৃত হয়েছেন জামিলুর রহমান শাখা।
শিল্পীদের জীবনটাই এমন। ঠিক যেন ঝরা পাতার মতো। শক্তি ফুরিয়ে গেলে মূল্যহীন হয়ে পড়ে।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে নন্দিত অভিনেতার জন্য রইল শুভ কামনা।