বিশ শতকের আশির শেষ থেকে নব্বই এর দশকের শুরুর দিকে আধুনিক বাংলা গান তার গতি ও ছন্দ যেন অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছিল।
বিশ্বায়নের সূচনা ও হিন্দি গানের জগতের অসাধারন কথা ও সুরের মায়াজাল যেন বাঙালিকে আচ্ছন্ন করে ফেলছিল।
বাংলা গানের তৃষ্ণা বাঙালিকে মেটাতে হতো কেবল ফেলে আসা দিনের বাংলা গান থেকে। আধুনিক বাংলা গানের তখন শ্বাসরুদ্ধ অবস্থা।
ঠিক সেই সময়ে কয়েকজন তরুণ-তরুণী বাঙালিকে শোনালেন একেবারে নতুন স্বাদের গান।
তাঁরা বললেন যে তাঁরা গাইছেন জীবনমুখি গান। বাংলা গান যেন তাঁদের যাদুর ছোঁয়ায় ফিরে পেল তার প্রাণ।
কবীর সুমন বাংলা গানের সেই তরুণ কাণ্ডারীদের অন্যতম। তাঁরা নিজের সুর দেওয়া গান শোনালেন নিজেদেরই কথায়।
গান তো কেবল সুর নয়, গান মানে কথাও। আর কথা মানেই কবিতা।
জীবনমুখি গানরূপী যে কবিতা তাঁরা
রচনা করেছেন তা বাদ দিলে বাংলা কবিতাই অসমাপ্ত থেকে যাবে।
সুমন চট্টোপাধ্যায়ের সংগীত প্রথমে সুমনের গান নামেই আত্মপ্রকাশ করে। এখন তিনি কবীর সুমন নামে
খ্যাত।
সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের আন্দোলনে কবীর সুমন তারা নিউজ টিভি চ্যানেলের সাংবাদিক, মতামত অনুষ্ঠানের সঞ্চালক হিসেবে নিরপেক্ষ (?) না থেকে আবেগ এবং বিবেকের তাড়নায় যেভাবে সত্য প্রকাশ করার চেষ্টায় ব্রতি হয়েছিলেন তা তাঁকে মানুষের মনের আরও উচ্চাসনে বসিয়ে দিয়েছে।
শ্রীমতী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে পশ্চিমবঙ্গ কৃষিজমি বাঁচাও কমিটির তিনি আহ্বায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন।
জন্ম ১৬ মার্চ ১৯৪৯ সালে পশ্চিমবঙ্গের ওডিষায়। তিনি তৃণমূলের একজন সাবেক সাংসদ।
পুরো নাম সুমন চট্টোপাধ্যায়। ধর্মান্তরিত হয়ে নাম ধারণ করেন কবীর সুমন। একসময় এদেশের এক কিংবদন্তি সঙ্গীতশিল্পীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেও পরবর্তীকালে বিচ্ছেদের মধ্য দিয়ে অবসান ঘটে সেই সম্পর্কের।
আজকের এই বিশেষ দিনটিতে তাঁর জন্য রইল শুভ কামনা।