শনিবার, জুন ১৩, ২০২৬

স্মরণ-কাজী সব্যসাচী স্মরণীয় বরণীয়

  • মেসবা খান
  • ২০২৫-০৩-০২ ১৯:৩৪:০৮

নজরুলের 'বিদ্রোহী' কবিতাটি বোধহয় পুত্র সব্যসাচীর জন্যই তিনি রচনা করেছিলেন। গা শিউরে ওঠে এমন ভরাট কন্ঠের আবৃত্তি শুনলে।
জন্ম ১৯২৯ সালের ৯ অক্টোবর ৮/১, পান বাগান লেন, এন্টালি অঞ্চলে কলকাতায়।
কাজী সব্যসাচীর ডাক নাম সানি। নজরুলের প্রিয় চীনের বিপ্লবী নেতা সান-ইয়াৎ এর নাম অবলম্বনে তাঁর নাম রাখা হয়।
কাজী সব্যসাচী আবৃত্তিকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন।
দু’বছরের মধ্যেই অল ইন্ডিয়ার রেডিও কর্তৃপক্ষ তাঁকে অনুষ্ঠান ঘোষক প্রশিক্ষন কেন্দ্র খুলে তাঁর সর্বময় কর্তার পদে অধিষ্ঠিত করেন।
কাজী সব্যসাচী ১৯৬৬ সালে গ্রামোফোন রেকর্ডে কাজী নজরুল ইসলামের 'বিদ্রোহী' কবিতা আবৃত্তি করে অভূতপূর্ব সাফল্য বয়ে আনেন। 
কাজী সব্যসাচী রবীন্দ্র জন্মশতবার্ষিকীতে শ্রেষ্ঠ আবৃত্তিকার হিসেবে পুরস্কৃত হন।
লাভ করেন কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের 'শাপমোচন' রেকর্ড করে অসাধারণ সাফল্য। 
কাজী সব্যসাচী দক্ষিণা রঞ্জন মিত্র মজুমদার রচিত 'ঠাকুরমার ঝুলি' কাহিনী অবলম্বনে নীল কমল, লালকমল এর গ্রন্থনা করে বাঙালি শিশুসহ বয়স্কদের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিলেন।
এছাড়া তিনি বিভিন্ন ডকুমেন্টারি চলচ্চিত্র ছাড়াও বেশকিছু ছায়াছবিতে নেপথ্য কন্ঠ দিয়েছিলেন।
১৯৬৮/৬৯ সালে সোভিয়েত রাশিয়ায় 'সাম্যবাদ' কবিতাটি আবৃত্তি করে সেখানকার মানুষকে নজরুলের কবিতার প্রতি অনুপ্রানিত করেন।
১৯৭১ সালে পাকিস্তান থেকে কবিকে দেয়া ভাতা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন কাজী সব্যসাচী।
১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে তাঁর দরাজ কন্ঠের কবিতা আবৃত্তি এবং মুক্তিযুদ্ধের নানান প্রতিবেদন পাঠ রণাঙ্গনের মুক্তি যোদ্ধাদের উজ্জীবিত ও অনুপ্রাণিত করেছিল।
নানান অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে বর্ডারে আটকে পড়া বাঙ্গালিদের জন্য তিনি অর্থ, খাদ্য বস্ত্রসহ বিভিন্ন সামগ্রী পাঠানোর ব্যবস্থা করেছেন।
কাজী সব্যসাচী ১৯৭২ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমন্ত্রণে সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশে ২১শে ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছিলেন।
কাজী সব্যসাচীই প্রথম বাংলাদেশের বন্দনামূলক কবিতা- 'নমঃ নমঃ নমঃ বাংলাদেশ মম' আবৃত্তি করে জাতির পিতাসহ বাংলাদেশের সকল জনগনের হৃদয়ে চিরস্থায়ী হয়েছেন।
১৯৭৯ সালের ২ মার্চ মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে তিনি কলকাতায় মৃত্যুবরণ করেন। 
তাঁর চির বিদায় বেলায় রেখে যান তিনি অগণিত ছাত্রছাত্রী ও গুণমুগ্ধ ভক্ত। 
তাঁর স্ত্রী প্রয়াত উমা কাজী, কন্যা খিলখিল কাজী, মিষ্টি কাজী ও প্রয়াত পুত্র বাবুল কাজীর পরিবারসহ তাঁদের বর্তমান প্রজন্ম রাজধানীর বনানীতে বসবাস করছেন। শ্রদ্ধাঞ্জলি।
 


এ জাতীয় আরো খবর