বাবা বললেন,
মারে, এখন ঘোরাফেরা না করে
সাঁজগোজ না করে-
ভালোকরে পড়াশুনো কর।
পরে দেখিস,
অনেক সময় পাবি ঘুরে বেড়ানোর।
ঘাড় কাঁত করে সাঁয় দিলাম
ঠিক আছে বাবা-
তোমার কথাই মেনে নিলাম।
আর দিনরাত বইয়ে মুখ গুঁজে
বাবাকে সেরা রেজাল্ট -
উপহার দিলাম।
এরপরে একটা -
সরকারি জব ও পেলাম।
বাবা- মায়ের খুশি আর ধরে না।
একটা সরকারি চাকুরের সাথে -
বিয়েও হলো আমার।
ভালো স্ত্রী হতে-
মাস শেষে পুরো মাইনে তুলে দিই।
এমনকি গাড়ি ভাড়া, হাত খরচ ও
চেয়ে নিতে হয়।
নিজের ইচ্ছমতো একটা -
পয়সাও খরচ করার অধিকার-
নেই আমার।
এই আমার ২য় স্বাধীনতা।
আরও কয়েক বছর পরে
আমার ছেলের বিয়ে দিয়ে -
গৃহলক্ষ্মী নিয়ে এলামঘরে।
ছেলে আমার মাসের বেশির
ভাগ সময়ই-
পরিবার নিয়ে, হয় শশুর বাড়ি-
নয়তো বাইরে বেড়াতে বেরোয়।
তাদের ঘরের সব জিনিস - পত্র
পাহারা দিয়ে রাখতে হয় -
আমায়।
একদিন বললাম-
খোকারে এবার আমি একটু -
তীর্থে যেতে চাই।
খোকা একটু ভেবে -
কি যেন হিসেব করে, মুখ গম্ভীর করে
বলল-
অনেকতো হয়েছে মা,
এবার একটু থামো।
তোমার কি সেই বয়েস আছে যে-
গাড়ি- ঘোড়ায় চড়ে ঘুরে ঘুরে বেড়াবে?
আমাদের একটু শান্তি দাওতো বাপু।
এই আমার শেষ স্বাধীনতা।
স্বাধীনতার স্বাদ কি আমি পেলাম?
এই প্রশ্ন রেখে গেলাম প্রভু -
তোমার কাছে।