মঙ্গলবার, সেপ্টেম্বর ২২, ২০২৬

আরব আমিরাতে মানবপাচারকারী শফিউলের মালামায় কারাগারে বন্দি মোরশেদ

  • গাজী মোহাম্মদ আবু তাহের
  • ২০২৪-০৬-১৪ ০১:১১:৩৮

মহেশখালী কক্সবাজার ১৩ জুন ২০২৪

সংযুক্ত আরব আমিরাতে মহেশখালী উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের চিহ্নিত মানবপাচারকারী শফিউল নামের এক যুবকের অবৈধ মালামাল নিয়ে  সংযুক্ত আরব আমিরাতের কারাগারে অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে- মহেশখালী পৌর এলাকার মোরশেদ নামের এক যুবক।বর্তমানে মোরশেদের পরিবার পরিজন মানবতার জীবন যাপন করছে। 
মানবপাচারকারী শফিউল আলম মহেশখালী  উপজেলার ছোট মহেশখালী ইউনিয়নের নলবিলা এলাকার জৈনিক রহিম বকসুর পুত্র। 
সে বিভিন্ন সময় আরব আমিরাতে কোম্পানীতে চাকরি দেওয়া সহ নানান প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে যেত কিন্তু সেখানে নিয়ে গিয়ে লোকজনকে তার অবৈধ ব্যবসার কাজে তাদেরকে ব্যবহার করতো বলে একাধিক সূত্রে জানা যায়।
তারই ধারাবাহিকতায় শফিউল গত এক দেড় বছর
আগে মহেশখালী পৌরসভার ০৫ ওয়ার্ড ঘোনাপাড়া এলাকার জনৈক মোক্তার আহমদের ছেলে মোরশেদ নামের এক যুবককে আরব আমিরাতে সুপার শপিং মলে চাকুরী দেওয়া চুক্তিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিয়ে যায়। 
মোরশেদ আরব আমিরাতে যাওয়ার পরপরই তাকে
সুপার শপিং মলে চাকুরী না দিয়ে মানসিক চাপ দেয়। 
অনেকটা জোরপূর্বক ভাবে অল্প কিছুদিন পর আরব আমিরাতে  মোরশেদকে শফিউলের অবৈধ ব্যাবসার সরবরাহকারী হিসেবে কাজ করায়।
শফিউলের অবৈধ ব্যবসার সাথে মোরশেদ জড়িত হওয়ার ৩ থেকে ৪ মাস পর ২০২৩ ইং সালের জুন মাসে শফিউলের মালিকানাধীন নগদ বিশ লক্ষ টাকা সহ প্রায় এক কোটি টাকার অবৈধ মালামাল নিয়ে আরব আমিরাতের আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে আটক হয়ে  বর্তমান সময় পর্যন্ত  আমিরতে কারান্তরীন রয়েছে মোরশেদ।
পরিবারের একমাত্র উপার্যন কারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে কারান্তরীন কারণে বর্তমানে তার পরিবার পরিজন মানবতার জীবন যাপন করছে। 
আরব আমিরাতে শফিউলের অবৈধ মালামাল নিয়ে মোরশেদের আটকের বিষয়টি শফিউল স্বীকার করেন শফিউল। 
মোরশেদ আটক হওয়ার দীর্ঘদিন পরে তার (মোরশেদের) পিতা মাতা ও স্ত্রীর সাথে কথা বলে শফিউল, কিন্তু মোরশেদকে ছাড়িয়ে আনতে প্রায় বাংলাদেশের  ৭০ লক্ষ টাকা লাগতে পারে বলেও বিভিন্ন জায়গাতে শফিউল নিজেই তা স্বীকারোক্তি দেন।
কিন্তু এত টাকা খরছ করে শফিউল তার পক্ষ থেকে মোরশেদকে কারাগার থেকে ছাড়িয়ে আনতে পারবেনা বলে জানিয়ে দিয়েছিলেন মোরশেদের পরিবারকে। 
অন্যদিকে শফিউলের এমন কথা শুনে দিশেহারা হয়ে পড়ে মোরশেদের পরিবার। দীদীর্ঘদিন পরে বিভিন্ন মহলের নানামুখী চাপের মুখে বিষয়টি নিয়ে নামে মাত্র সমাধানের নাম দিয়ে পৌরসভার দুইজন কাউন্সিলর ও স্থানীয় কয়েকজন গণ্যমান্য ব্যাক্তিবর্গদের উপস্থিতিতে মোরশেদের পরিবারকে শুধুমাত্র চার লক্ষ টাকা দিয়ে বিষয়টি শেষ করার একটা অপচেষ্টাও করেছে শফিউল। যার অডিও ভিডিও প্রতিবেদকের হাতে রয়েছে।
আরব আমিরাতে থাকা মোরশেদের এক বন্ধু ও প্রতিবেশী মহেশখালী পৌর এলাকার ঘোনাপাড়া এলাকার জনৈক আনছুর মাঝির ছেলে মোহাম্মদ শাহেদের মোটোফোনে কনফারেন্সের মাধ্যমে বেশ কয়েকজনের সাথে কথা হয় আমিরাতে শফিউলের অবৈধ মালামাল নিয়ে কারান্তরীন মোরশেদের সাথে। মোটোফোনে মোরশেদ জানান, শফিউলের অবৈধ মালামাল বিক্রির বিশ লক্ষ নগদ টাকা ও প্রায় এক কোটি টাকার অবৈধ মালামাল (চোখেত ড্রপের মত দেখতে এক প্রকার মাদক) নিয়ে আমিরাতের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে গেল বছর আটক হয়ে বর্তমানে অনিশ্চিত জীবন যাপন করে আসছেন। আটক হওয়ার পরপরই মাঝেমধ্যে কারাগারে মোরশেদের জন্য খরছ করার জন্য সল্প পরিমান টাকা পাঠালেও পরে তা বন্ধ করে দেই শফিউল।
তাছাড়াও মোরশেদ আরো জানান, দ্রুত সময়ের মধ্যে তার মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করা না হলে যে কোন মুহুর্তে তার যাবজ্জীবন হতে পারে। এমতা অবস্থায় সে বাংলাদেশ সরকার সহ স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শফিউলের অবৈধ মালামাল নিয়ে মোরশেদের আটক হয়ে বর্তমানে কারান্তরীন রয়েছেন মোরশেদ এমন বিষয়টি স্বীকার করে মোরশেদের পরিবারকে চার লক্ষ টাকা দেওয়ার বিষয়টা নিয়ে সেদিন বৈঠকে উপস্থিত থাকা মহেশখালী পৌর কাউন্সিলর মঞ্জুর আহমদ ও শামশুল ইসলাম বাদশা জানান, মোরশেদের পিতা মোক্তার আহমদের সাথে অভিযুক্তদের মধ্যে পূর্বে কি কথা হয়ছে না হয়ছে তা তারা জানেনা? তবে যেদিন শফিউলের কাছ থেকে মোরশেদের পিতা মোক্তার আহমদ ও মোরশেদের স্ত্রীর হাতে নগদ চার লক্ষ টাকা নিয়েছিল সেই টাকাগুলো দেওয়ার সময় স্ব-শরীরে তারা উপস্তিত ছিলেন এবং একটি স্ট্যাম্পে সাক্ষীও ছিলেন তারা।
আমিরাতের কারেগারে মানবেতর জীবন যাপন করা মোরশেদের পিতা পৌর এলাকার জনৈক আব্দু শুকুরের ছেলে মোক্তার আহমদ এর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানার জন্য তার ব্যাক্তিগত ফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে মোরশেদের নিজ বাড়ীতে গেলে তার মা জানান, তাদের ছেলে মোরশেদকে দুবাইয়ে কতগুলো অবৈধ মালামাল নিয়ে ওই দেশের পুলিশ আটক করেন। আটক করার ১ বছর পার হলেও অদ্যাবধি টাকার অভাবে মোরশেদকে সেখান থেকে মুক্ত করতে পারেননি তারা। অভিযুক্ত শফিউল অনেক ক্ষমতাধর ও অধিক টাকা পয়সার নালিক তাই তার বিরুদ্ধে তারা কোন ধরনের আইনানুগ ব্যাবস্থাও গ্রহন করতে পারেনি বলে জানান। তবে শফিউল বারবার মোরশেদকে সে নিজেই কারাগার থেকে মুক্ত করে আনার মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে আসছেন বলেও জানান তার মা।

 


এ জাতীয় আরো খবর