কোম্পানীগঞ্জ প্রতিনিধি
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে শিশুর খতনার সময় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের ঘটনায় অভিযুক্ত উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসারকে শাস্তিমূলক বদলি ও মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্টকে (শিক্ষানবিশ) স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দু সদস্যের গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।একই বিষয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করে কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.মোহাম্মদ সেলিম বদলি ও তদন্ত কমিটি গঠনের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনা তদন্তে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. মো. যোবায়েরকে প্রধান করে ও ডা. শাহাদাত হোসেন সাগরকে সদস্য করে দু’সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামি তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেয়ার জন্য বলা হয়েছে।
তিনজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগটি দায়ের করছেন ,ঘটনার শিকার শিশু আল নাহিয়ান তানভীরের জেঠা উপজেলা আওয়ামীলীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শেখ ফরিদ।
এবিষয়ে নোয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা.মাসুম ইফতেখার বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর স্বাস্থ্য বিভাগের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মহিউদ্দিন ও আমি আজ সকালে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশুটিকে দেখতে যাই। এ সময় অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার বিজয় কুমার দে’কে সেন্টমার্টিন দ্বীপের স্বাস্থ্যকেন্দ্রে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে। মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট (শিক্ষানবিশ) সৌরভ ভৌমিককে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রবেশ করতে নিষেধ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত , গতকাল বুধবার দুপুরে সুন্নতে খতনা করাতে ছেলে তানভীরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেন বাবা আলমগীর হোসেন বাদল। এ সময় উপ-সহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার সৌরভ ভৌমিক শিশুটির খতনা করানোর সময় তানভীরের গোপনাঙ্গের মাথার কিছু অংশ কেটে ফেলে। এতে অতিরিক্ত রক্তপাত হয় তানভীরের। পরে তার চিৎকার শুনে তার বাবা আলমগীর গিয়ে দেখেন রক্তপাতে কেবিনের বিছানা ভিজে গেছে।