শরতের শুভ্র রুমালে মুছে দিলে সিঁথির সিঁদুর,
অজান্তেই মোহন চমকে জাগলো এ দিন দুপুর
নিভৃতে এঁকেবেঁকে আঁকলে
রোদের রুপালি আলপনা
গাঁয়ের ষোড়শী গন্ধ নিয়ে যৌবনাবতী কাশপরি
দাঁড়ানো চরায়।
তার সাদা আঁচলে এঁকে নিলো
শিউলি শৈলী অফুরন্ত প্রত্যাশায়।
পেঁজা পেঁজা মেঘের গুঞ্জন নি:সীমের
উষ্ণ অধর জুড়ে।
শূন্য কলসি এ কোন জলের ছলে ফেললে
রাঙাচরণ কাশবনের পাঁজরে।
প্রথম ভোরের উত্তাপে দু'বাহুতে ঝরে শিউলি, বকুল
বাতাসের উড়ানি চাদরে
হোঁচট খায় ভাদ্রের তাল-পাতার গান
শৈশবের স্মৃতির ঝাঁকে ভাসে তাল পিঠার ঘ্রান।
শত শত হারানো ছন্দে ঘাসের বুকে নি:শব্দে
হাঁটছে শিশির কণা।
জ্বলন্ত ঘোর চোখের ধূসরতায় তাকিয়ে দেখছে
সূয্যিমামা।
তাই না দেখে,
রাঙা ঘাসফড়িং মায়াবী স্বপ্ন ভেজা ঠোঁটে
চুম্বন আঁকে কাশপরির ঠোঁটে।
তির তির করে কেঁপে ওঠে হাওয়া,
এই বুঝি এ বুকে লাগলো শরতের ছোঁয়া।