সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা কোনোটাই চোখে পড়ে না তার,
সকাল মানেই পান্তা মরিচ মুখে দিতে না দিতেই দৌড়।
দেরি হলে যদি অন্য কেউ এসে যায় দিনটা মাটি,
অনাহারে থাকবে আরো চার চারটি মুখ।
দুপুরে ঘাম ঝরা শরীরে তেলে মাখা মুড়ি কাঁচা লঙ্কা আর এক বোতল জল,
সারি দিয়ে বসা আরো কয়েকজন সহকর্মী।
মালিকের চড়া গলা --- এত সময় লাগে এইটুকু মুড়ি খেতে,
আজকের কাজ শেষ করেই যাবি, জলদি হাত লাগা !
সন্ধ্যা মানে কোমরে টাকা কয়টা গুঁজে মুদির দোকান।
মনে মনে ভাবে মেয়েটা মাছ খেতে চেয়েছিল, না আজো হবেনা,
চাল,ডাল,তেল, নুন, বাকি টাকার ডিম ---
---- দুটোর দাম কাল দেব মামা।
---- বাকি হবে না ---
ঠিক আছে দুটোই দাও, হনহনিয়ে বাড়ি ফেরা।
অন্ধকার ঘনিয়ে আসতে না আসতেই চোখের পাতা
জড়িয়ে আসে।
কখন দেখবে তারা ভরা আকাশ, মেঘের আড়ালে জোছনার লুকোচুরি !
তবে ঘরেই তো জোছনা জড়িয়ে ধরে রাখে আদরে।
সাগরের জোয়ার-ভাটা দেখতে যেতে হয না,
জীবনের জোয়ারই ওদের দেখতে আসে।
মাঝে মাঝে কাজ না থাকলে বাঁশের বাঁশিতে সুর তোলে,
কখনো বা শৈশবের গল্প শোনায় ছেলে মেয়েদের।
বৌ এর ঝাঁঝালো গলা---
গল্পে পেট ভরে না, সামনে ঈদ এবারও কি কোনো নতুন কাপড় হবে না ?
হাসি মুখে জবাব দেয় --- হবেরে হবে সমিতিতে টাকা জমিয়েছি।
এমনি ভাবেই তো জীবন কেটে যাচ্ছে, যাবেও
দেখ্ ! আমরা কত ভালো আছি ---
যারা ফুটপাতে দিন কাটায় তাদের কথা
ভেবে দেখ্ একবার।