৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষা-২০২৫-এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারে ৬১১ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২৭ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের সুপারিশের ভিত্তিতে ৬১১ জনকে সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের প্রবেশ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নির্ধারিত বেতনক্রমে তাদের এ নিয়োগ কার্যকর হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১২ অক্টোবরের মধ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগদান করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যোগদান না করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থী চাকরিতে যোগদানে অনিচ্ছুক বলে গণ্য হবেন এবং তার নিয়োগ বাতিল হয়ে যাবে।
নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, নবনিযুক্তদের বাংলাদেশ লোক প্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্র অথবা সরকার নির্ধারিত অন্য কোনো প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ নিতে হবে। এরপর নিজ নিজ চাকরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পেশাগত ও বিশেষ প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করতে হবে।
নিয়োগপ্রাপ্তদের দুই বছর শিক্ষানবীশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। প্রয়োজন হলে সরকার এ সময় সর্বোচ্চ আরও দুই বছর বাড়াতে পারবে। শিক্ষানবীশকালীন সময়ে কোনো কর্মকর্তাকে চাকরিতে বহাল রাখার অনুপযোগী মনে হলে কারণ দর্শানোর সুযোগ না দিয়েই এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই তাকে চাকরি থেকে অপসারণ করা যাবে।
বুনিয়াদি ও পেশাগত প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন, বিভাগীয় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং শিক্ষানবীশকাল সন্তোষজনকভাবে শেষ করার পর সংশ্লিষ্টদের চাকরি স্থায়ী করা হবে।
প্রশিক্ষণে যাওয়ার আগে নিয়োগপ্রাপ্তদের কর্মস্থল থেকে অব্যাহতি প্রদানকারী কর্তৃপক্ষের কাছে অঙ্গীকারনামা জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে একজন জামিনদারসহ ৩০০ টাকা মূল্যের অ-আদালতীয় স্ট্যাম্পে বন্ড দিতে হবে। শিক্ষানবীশকালীন সময়ে অথবা তা শেষ হওয়ার পর তিন বছরের মধ্যে চাকরি থেকে ইস্তফা দিলে প্রশিক্ষণকালীন বেতন-ভাতা, প্রশিক্ষণের জন্য নেওয়া অগ্রিম, ভ্রমণভাতা ও অন্যান্য অর্থের পাশাপাশি প্রশিক্ষণে সরকারের ব্যয় করা অর্থ ফেরত দিতে হবে।
চাকরিতে যোগদানের সময় আরও ৩০০ টাকা মূল্যের অ-আদালতীয় স্ট্যাম্পে একটি বন্ড দিতে হবে। এতে নিজে বা পরিবারের কোনো সদস্য যৌতুক গ্রহণ বা প্রদান করবেন না-এ মর্মে অঙ্গীকার করতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, কোনো নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তি বিদেশি নাগরিককে বিয়ে করে থাকলে অথবা বিয়ের জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকলে তার নিয়োগ বাতিল বলে গণ্য হবে। নিয়োগের পর কোনো কর্মকর্তার বিষয়ে বিরূপ বা ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ সংশোধন বা বাতিলের অধিকারও কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেছে।
সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ১৩(১) উপবিধি অনুযায়ী নিয়োগপ্রাপ্তদের নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের মালিকানাধীন বা দখলে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির বিবরণসংবলিত ঘোষণাপত্র চাকরিতে যোগদানের সময় সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি ১৩(২) উপবিধি অনুযায়ী প্রতি পাঁচ বছর পর ডিসেম্বর মাসে সম্পত্তির মূল্য বৃদ্ধির হিসাবসহ বিবরণী যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।
প্রজ্ঞাপনে দেওয়া তালিকা অনুযায়ী, বাংলা বিভাগে ৬১ জন, ইংরেজিতে ৪৪, রাষ্ট্রবিজ্ঞানে ৪৯, দর্শনে ২৭, অর্থনীতিতে ৩৬, প্রাণিবিদ্যায় ১২, ইতিহাসে ২৭, সমাজকল্যাণে ২২, রসায়নে ২৯, ইসলাম শিক্ষায় ১১, ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতিতে ৩০, পদার্থবিদ্যায় ২২ এবং উদ্ভিদবিদ্যায় ২২ জনকে প্রভাষক পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজবিজ্ঞানে ১৫ জন, গণিতে ৩০, ভূগোলে ১৫, হিসাববিজ্ঞানে ২৬, বিপণনে ১০, ব্যবস্থাপনায় ৩১, অর্থ ও ব্যাংকিংয়ে ১৭, মনোবিজ্ঞানে ৯, কৃষিবিজ্ঞানে ৪, পরিসংখ্যানে ১২, সংস্কৃতে ৩, গার্হস্থ্য অর্থনীতিতে ৬, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে ২৪ এবং খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগে দুজনকে নিয়োগের জন্য মনোনীত করা হয়েছে।
৪৯তম বিসিএস,৬১১ নিয়োগ,শিক্ষা ক্যাডার